বিশ্বজুড়ে ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের আবহে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতে কোমর বেঁধে নামলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একদিকে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে অস্থিরতা, অন্যদিকে দেশের বেশ কিছু রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন— এই দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষত, যে রাজ্যগুলোতে নির্বাচন দোরগোড়ায়, সেখানকার মুখ্য সচিবদের আলাদাভাবে তলব করা হয়েছে। সূত্রের খবর, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশের রসদ সরবরাহ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাই এই বৈঠকের মূল এজেন্ডা।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর অস্থিরতা ভারতের সীমান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রের সমন্বয় বাড়ানো অপরিহার্য। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের কাছে বর্তমান নিরাপত্তা পরিকাঠামোর রিপোর্ট চাইতে পারেন। বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে ভোটমুখী রাজ্যগুলোর ওপর, কারণ নির্বাচনের সময় প্রশাসনিক রদবদল এবং নিরাপত্তার ফাঁক গলে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করাই সাউথ ব্লকের লক্ষ্য।
রাজ্যগুলোর মুখ্য সচিবদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জরুরি পরিষেবার একটি আগাম রূপরেখা তৈরি রাখতে। খাদ্যশস্যের মজুত থেকে শুরু করে জ্বালানির জোগান— সব দিক খতিয়ে দেখা হবে এই মেগা বৈঠকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদী এই বৈঠকের মাধ্যমে দেশবাসীকে এই বার্তাই দিতে চাইছেন যে, আন্তর্জাতিক সংকট থাকলেও ভারতের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। বিরোধীরা এই বৈঠককে রাজনৈতিক কৌশল বললেও, জাতীয় স্বার্থে এই প্রশাসনিক তৎপরতা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।