যুদ্ধের ময়দানে অদৃশ্য ‘ম্যাজিশিয়ান’! আমেরিকার সব সংকটের মুশকিল আসান কাতার?

বিশ্ব রাজনীতিতে যখনই আমেরিকা বড় কোনো কূটনৈতিক সংকটে পড়েছে, তখনই ত্রাতা হিসেবে উঠে এসেছে ছোট দেশ কাতার। আর এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি। ইরান-আমেরিকা সাম্প্রতিক সংঘাত নিরসনেও মূল ভূমিকা পালন করেছে কাতারের মধ্যস্থতা। তেহরানে পৌঁছে কাতারের প্রতিনিধি দল হোর্মুজ প্রণালী পুনরায় খোলার শর্তাবলি চূড়ান্ত করেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শেখ আল থানির কূটনৈতিক দক্ষতার তালিকায় রয়েছে দীর্ঘ ১৫ মাসের গাজা যুদ্ধবিরতি এবং বন্দি বিনিময়ের জটিল প্রক্রিয়া, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সফল হয়। এর আগেও, ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন নাগরিকদের উদ্ধার ও তালেবানের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে কাতারের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। এছাড়া ভেনেজুয়েলা এবং আমেরিকার মধ্যে গোপন আলোচনা ও বন্দি বিনিময়েও তিনি পালন করেছেন নিরবচ্ছিন্ন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা।

২০০৩ সালে কাতার ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনায় স্নাতক করা শেখ আল থানি ২০১৪ সাল থেকে কাতার ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট-এর প্রধান হিসেবেও কাজ করছেন। কাতার শুধু বর্তমান সংকট নয়, ২০০৭ সালে ইয়েমেন, ২০০৮ সালে লেবানন সংকট, লিবিয়ার সংঘাত এবং সোমালিয়া-কেনিয়া সম্পর্কের উন্নয়নের মতো অসংখ্য বৈশ্বিক বিবাদে সফল মধ্যস্থতা করেছে। গাজা থেকে ইরান—যখনই বিশ্ব কোনো জটিলতায় জড়িয়েছে, তখনই কাতার এবং শেখ আল থানি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করেছেন। আধুনিক ভূ-রাজনীতিতে কাতার আজ বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী এবং নির্ভরযোগ্য শান্তি-দূত হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।