পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের কালো মেঘের মাঝেই ভারতের স্বার্থ রক্ষায় চূড়ান্ত কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে দীর্ঘ আলোচনা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল দুটি— ইরানে আটকে পড়া ভারতীয়দের নিরাপত্তা এবং দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন ‘জ্বালানি সরবরাহ’ স্বাভাবিক রাখা।
এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে মোদী জানান, ইজরায়েল ও আমেরিকার সঙ্গে ইরানের সংঘাতের জেরে অসামরিক পরিকাঠামোর ক্ষতি ও সাধারণ মানুষের মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সংকটের এই মুহূর্তে ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা এবং পণ্যবাহী জাহাজের নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিত করাই দিল্লির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ইরানে বর্তমানে প্রায় ৯,০০০ ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করতে তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস দিনরাত কাজ করছে। অনেককে স্থলপথে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান হয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের তেলের ট্যাঙ্কারগুলির যাতায়াত সুরক্ষিত রাখতে ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেছেন এস জয়শঙ্কর। ভারতের এই শক্তিশালী কূটনৈতিক পদক্ষেপের ফলে আপাতত জ্বালানি আমদানি স্থিতিশীল করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।