ইরান, ইজরায়েল এবং আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা এখন আর কেবল ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তা সরাসরি আঘাত হানতে চলেছে ভারতের অর্থনীতি ও জনজীবনে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১ কোটি ভারতীয় প্রবাসী কর্মরত রয়েছেন। ১৯৯০ সালের কুয়েত সংকটের সময় যে ভয়াবহ গণ-প্রত্যাবর্তন ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ভারত দেখেছিল, ২০২৬-এর এই যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই স্মৃতিকেই ফের উসকে দিচ্ছে। যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে এই বিশাল সংখ্যক মানুষের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে, যার প্রভাব পড়বে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারেও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত প্রতি বছর বিদেশে থাকা শ্রমিকদের থেকে পাঠানো রেমিট্যান্সের (Remittance) ওপর বড় মাত্রায় নির্ভরশীল। যার একটি বড় অংশ আসে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং কাতার থেকে। যুদ্ধের কারণে আকাশপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া বা খনিজ তেলের উৎপাদন ব্যাহত হলে এই দেশগুলির অর্থনীতি ধাক্কা খাবে, যার সরাসরি কোপ পড়বে প্রবাসী শ্রমিকদের বেতনের ওপর। এছাড়া, বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে ভারতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। ভারত সরকারের সামনে এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই কোটি কোটি প্রবাসীকে সুরক্ষিত রাখা এবং প্রয়োজনে তাঁদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা।