হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান-আমেরিকা-ইসরায়েলের ত্রিমুখী টানাপোড়েন ও যুদ্ধাতঙ্কের মাঝেই জ্বালানি নিরাপত্তায় বড়সড় মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কার মুখে দাঁড়িয়ে লিক্যুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG) উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে দেশ। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ এখন দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমেই পূরণ করা হচ্ছে, যা আগে ছিল মাত্র ৪০ শতাংশ।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, দেশে অপরিশোধিত তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং রিফাইনারিগুলি বর্তমানে সর্বোচ্চ ক্ষমতায় কাজ করছে। আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন কমিয়ে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্র, যার সুফল মিলছে হাতেনাতে। যদিও ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে জানুয়ারির তুলনায় মার্চ মাসে এলপিজি ব্যবহার প্রায় ২৬.৬ শতাংশ কমেছে, যার কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মানুষের সতর্কতা ও বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক স্তরে কূটনৈতিক তৎপরতাও জারি রেখেছেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। সম্প্রতি কাতার সফরে গিয়ে তিনি জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। কাতার ভারতকে নিরবচ্ছিন্ন এলপিজি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একদিকে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে কাতারের মতো বন্ধু রাষ্ট্রের আশ্বাস—সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝেও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এখন অনেক বেশি সুসংহত।





