যুদ্ধের আঁচ এবার রান্নাঘরে! এলপিজি সঙ্কটে দিশেহারা রাজ্যবাসী, কী বলছে কেন্দ্র ও রাজ্য?

পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে ভারতসহ পশ্চিমবঙ্গে রান্নার গ্যাসের (LPG) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বুকিং করার পরেও সিলিন্ডার না পাওয়া, লম্বা লাইন এবং বাণিজ্যিক গ্যাসের দুষ্প্রাপ্যতায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার দিল্লিতে সংসদ চত্বরে প্রতিবাদে সামিল হন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা। লোকসভার বাইরে প্ল্যাকার্ড হাতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মহুয়া মৈত্র, দোলা সেনসহ অন্যান্যরা। তাঁদের অভিযোগ, সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে দাবি করলেও বাস্তবে আট থেকে দশ দিন পার হয়ে গেলেও সাধারণ মানুষ গ্যাস পাচ্ছেন না।

রাজ্যের পরিস্থিতি মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। গ্যাস কালোবাজারি রুখতে নবান্ন বিশেষ এসওপি (SOP) জারি করেছে এবং কন্ট্রোল রুম খুলেছে। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে হাসপাতাল, মিড-ডে মিল এবং জরুরি পরিষেবাগুলোতে গ্যাস সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলায় জেলায় পুলিশ ও প্রশাসনকে ডিলারদের স্টকের ওপর নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে।

গ্যাসের অভাবে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের ট্রলার চলাচল থেকে শুরু করে ঘাটালে মা ক্যান্টিনের রান্না বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো জায়গায় বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের কালোবাজারি ও উচ্চমূল্যে বিক্রির অভিযোগও সামনে আসছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী আতঙ্কিত না হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। সরকার জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ২৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে এবং গ্রাহকদের বুকিংয়ের ব্যবধান (গ্রামীণ এলাকায় ৪৫ দিন, শহরাঞ্চলে ২৫ দিন) বাড়ানো হয়েছে কালোবাজারি রুখতে। বিশ্ব পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট থেকে মুক্তি নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না বিশেষজ্ঞ মহলে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy