রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর মধ্যস্থতার চেষ্টা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই হোয়াইট হাউস থেকে এল এক বিস্ফোরক রিপোর্ট। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির (Volodymyr Zelenskyy) মধ্যেকার বৈঠক রীতিমতো চিৎকার-চেঁচামেচি এবং চরম অপমানে পরিণত হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প নাকি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে তুলোধোনা করার পাশাপাশি গালিগালাজও করেছেন।
মানচিত্র ছুঁড়ে ফেললেন ট্রাম্প:
সূত্রের খবর, হোয়াইট হাউসে জ়েলেনস্কি ও তাঁর প্রতিনিধিরা যুদ্ধক্ষেত্রের যে মানচিত্র নিয়ে এসেছিলেন, ট্রাম্প তা দেখতেই চাননি। বরং রাগের মাথায় ইউক্রেনের সামরিক ম্যাপ ছুঁড়ে ফেলে দেন। তিনি চিৎকার করে বলেন যে, এই ম্যাপ দেখতে দেখতে তিনি বিরক্ত!
ট্রাম্প নাকি ক্রমাগত চিৎকার ও গালিগালাজ করতে থাকেন এবং ইউক্রেনকে চাপ দেন যে জ়েলেনস্কি যেন গোটা ডনবাস অঞ্চলটি রাশিয়ার হাতে তুলে দেন।
‘পুতিন তোমাদের ধ্বংস করে দেবে’:
ট্রাম্পের দেওয়া সতর্কবার্তাও ছিল চরম বিতর্কিত। তিনি নাকি জ়েলেনস্কিকে সাফ জানিয়ে দেন যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin) শপথ নিয়েছেন ইউক্রেনকে ধ্বংস করে দেওয়ার। ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ট্রাম্প রাশিয়ার আগ্রাসনকে ‘যুদ্ধ’ বলেও মানতে অস্বীকার করেছেন। তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করে বলেন: “যদি (পুতিন) চায়, তাহলে ও তোমাদের ধ্বংস করে দেবে।”
এছাড়াও, ইউক্রেনকে টমাহক ক্রুজ মিসাইল দেওয়ার কথা থাকলেও, রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পরই নাকি ট্রাম্প সেই মিসাইল দিতে অস্বীকার করেছেন।
১৮০ ডিগ্রি ইউ-টার্ন:
যে ট্রাম্প কিছুদিন আগেও বলেছিলেন রাশিয়ার অর্থনীতি ভেঙে পড়ার মুখে, তিনি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে এখন বলছেন রাশিয়ার অর্থনীতির অবস্থা বেশ ভালো।
যদিও ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট পুতিনের কোনো শর্তই মানতে নারাজ। পুতিনের শর্ত ছিল, ডনবাস রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণেই থাকুক, পরিবর্তে তিনি দক্ষিণ খেরোসন ও জ়াপোরজ়িয়ার কিছু অংশ ফেরত দেবেন।
এই উত্তপ্ত বৈঠক নিয়ে এখনও পর্যন্ত হোয়াইট হাউস বা জ়েলেনস্কির অফিসের তরফে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।