আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে এক বিশাল পটপরিবর্তন! আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার মাঝেই রাশিয়ার সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিশ্বের তাবড় শক্তিগুলিকে কড়া বার্তা দিল ভারত। আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো ভারত ও রাশিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি RELOS (Reciprocal Exchange of Logistic Support)।
চুক্তির আসল শক্তি কোথায়? ২০২৫-এর ফেব্রুয়ারি মাসে মস্কোতে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটি ১৮ এপ্রিল রাশিয়ার সরকারি পোর্টালে প্রকাশ করা হয়। এই চুক্তির ফলে:
সেনা মোতায়েন: ভারত ও রাশিয়া একে অপরের ভূখণ্ডে সর্বোচ্চ ৩,০০০ সেনা, ৫টি যুদ্ধজাহাজ এবং ১০টি সামরিক বিমান মোতায়েন করতে পারবে।
উত্তর সমুদ্রপথ জয়: এই চুক্তির ফলে ভারত রাশিয়ার উত্তর সমুদ্রপথের (Northern Sea Route) বন্দরগুলি ব্যবহারের ছাড়পত্র পেল। ভ্লাদিভস্তক থেকে মুরমানস্ক পর্যন্ত বিস্তৃত এই রুট ভারতের জ্বালানি ও কৌশলগত নিরাপত্তার জন্য গেম-চেঞ্জার হতে চলেছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা: রাশিয়ার ইয়ামাল উপদ্বীপ থেকে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) আমদানির পথ আরও সুগম হলো, যা ভারতের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে।
কেন এই চুক্তি ‘ব্যতিক্রমী’? প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত এই প্রথম কোনো দেশের সঙ্গে এত বিস্তৃত লজিস্টিক ও সামরিক মোতায়েন ব্যবস্থায় সম্মত হয়েছে। পাঁচ বছরের জন্য কার্যকর হওয়া এই চুক্তি পারস্পরিক সম্মতিতে আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। বিশেষ করে জরুরি বা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও একে অপরকে লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দুই দেশের ‘অল-ওয়েদার ফ্রেন্ডশিপ’-কে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।
বিশ্ব রাজনীতিতে এর প্রভাব: ভারত যখন একদিকে কোয়াড (QUAD) বা আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করছে, ঠিক তখনই রাশিয়ার সঙ্গে এই গভীর সামরিক সমঝোতা ভারতের স্বাধীন বিদেশ নীতির বড় প্রমাণ। আমেরিকার পাকিস্তান-প্রীতির আবহে এই চুক্তি দিল্লির পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনকে এক প্রকার প্রচ্ছন্ন বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে।
আপনার কী মনে হয়? ভারতের এই পদক্ষেপ কি আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল ধরাবে, নাকি ভারত বিশ্বের নতুন সুপারপাওয়ার হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল? কমেন্টে জানান আপনার মতামত!





