যাদবপুরে আদৌ কি ঝামেলা নাকি সাজানো নাটক? ভিডিয়ো ফাঁশ করে বোমা ফাটালেন মুখ্যমন্ত্রী!

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আদৌ কি কোনও অশান্তির আবহ তৈরি হয়েছে? নাকি পুরোটাই একটি নির্দিষ্ট সংবাদ মাধ্যমের উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত মিথ্যা প্রচার? নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে এই প্রশ্ন তুলে একপ্রকার তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট দাবি, যাদবপুরে নতুন করে অপ্রীতিকর কিছুই ঘটেনি। বর্তমানে পঠনপাঠন এবং সার্বিক পরিবেশ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।

সাংবাদিক বৈঠকে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী একটি নির্দিষ্ট মিডিয়া গ্রুপকে নিশানা করে বলেন, “যাদবপুরে কিছুই হয়নি, সব স্বাভাবিক। ওই সংবাদ মাধ্যমটির নিজেদের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থ রয়েছে, তবে আমাদের কোনও স্বার্থ নেই।” উক্ত সংবাদ মাধ্যমের প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, এরা নির্বাচন নিয়ে যে সমস্ত মনগড়া দাবি করেছিল তা ডাহা ফেল করেছে, আর সেই হতাশা থেকেই এখন এসব ভিত্তিহীন খবর রটানো হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন তাঁর দফতরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস হস্টেলের একটি ভিডিয়ো এসেছে বলে জানান তিনি। ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে পাঠানো হচ্ছে এবং সত্য প্রমাণিত হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আর্টস হস্টেলে এমন কিছু ছবি এবং দেশবিরোধী স্লোগান দেখা গিয়েছে যা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী। আর্টস বিল্ডিংয়ে ‘রেড স্যালুট কিষাণজি’ জাতীয় লেখা আর সহ্য করা হবে না।”

অতীতে জাতীয় নিরাপত্তার নানা ইস্যুতে বিরোধীদের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অনেকে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর বিরোধিতা করে মিছিল করে, কিন্তু পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় যখন আমাদের জওয়ানরা শহিদ হন, তখন এরা নিশ্চুপ থাকে। মাসুদ আজহারের আস্তানায় বায়ুসেনা সফল আঘাত হানলে এরা ‘যুদ্ধ নয় শান্তি চাই’ বলে স্লোগান দেয়। বাংলায় এই ধরনের মানসিকতা আর বরদাস্ত করা হবে না, কারণ রাষ্ট্র সবার আগে।”

আসন্ন রাখি পূর্ণিমা উপলক্ষে রাজ্য সরকারের বিশেষ উদ্যোগের কথা ঘোষণা করে তিনি জানান, আগামী ২৮ তারিখ ‘দেশপ্রেমের বন্ধন’ হিসেবে এই দিনটি পালিত হবে। সংস্কৃতি ও যুবকল্যাণ দফতর রাজ্যজুড়ে প্রায় ৪,০০০টি বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করছে, যেখানে পুরো ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হবে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণেও উক্ত দিনে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি।