চোখের পলকে ছাই সব! পাকিস্তানের হাসপাতালেই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে ১৫টি ফুটফুটে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু!

মাত্র দুই দিন আগে মহারাষ্ট্রের অমরাবতীর একটি সরকারি হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহ স্মৃতি এখনও মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি। আর ঠিক তার পরেই বুধবার ভোরে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ঘটে গেল আরও এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। স্থানীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম জিও টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামাবাদের বিখ্যাত ‘পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস’ (PIMS) হাসপাতালের প্রসূতি ও শিশু কল্যাণ ওয়ার্ডে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নবজাতকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা বিশ্বে তীব্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।

প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার ভোরে ওই হাসপাতালের প্রসূতি ও শিশু ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় হঠাৎ করেই এসির কম্প্রেসরে মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটে। এসির ত্রুটির কারণে মুহূর্তের মধ্যে আগুন গোটা ওয়ার্ডে দাউদাউ করে ছড়িয়ে পড়ে এবং নিমেষে তা ভয়াবহ রূপ নেয়। জিও টিভির তথ্য বলছে, দুর্ঘটনার সময় ওই নার্সারিতে মোট ১৬ জন নবজাতক শিশু চিকিৎসাধীন ছিল। আকস্মিক এই বিপর্যয়ে দমবন্ধ করা পরিস্থিতিতে মাত্র একজন শিশুকে কোনোমতে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি ১৫ জন নিষ্পাপ নবজাতক আগুনে পুড়ে ও ধোঁয়ায় অস্বস্তিতে মারা যায়। এই ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গাফিলতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ও দমকল বাহিনী। মোট ৬টি ফায়ার ইঞ্জিনের দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন সম্পূর্ণ নিভে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত অংশে দীর্ঘক্ষণ ধরে কুলিং অপারেশন চালানো হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু হয়। এদিকে, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ গোটা ঘটনার দ্রুত ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। কী কারণে এই শর্ট সার্কিট বা বিস্ফোরণ ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ঠিক এর দু’দিন আগে ভারতের মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতেও এ ধরনের এক অগ্নিকাণ্ডে ৩ জন নবজাতকের মৃত্যু হয়েছিল, যা গোটা দেশকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty