‘নারী কী পরবে, তা তাঁর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা’! কৃতি স্যাননের পাশে দাঁড়িয়ে কড়া বার্তা রাহুলের!

রাখি বন্ধনের মতো একটি পবিত্র পারিবারিক উৎসবকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পোশাক বিতর্ক বর্তমানে গোটা দেশের রাজনৈতিক ও বিনোদন জগতকে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। সম্প্রতি একটি নামী অলঙ্কার প্রস্তুতকারক সংস্থার রাখি উৎসবের বিজ্ঞাপনে ঐতিহ্যবাহী পোশাকের বদলে ফ্যাশনেবল ব্লাউজ ও মডার্ন স্কার্ট পরিধান করার কারণে তীব্র কটাক্ষের মুখে পড়েছিলেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী কৃতি স্যানন। ওই পোশাকে অভিনেত্রীর নেকলাইন প্রদর্শন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় এবং একাংশের নেটিজেনরা অভিযোগ তোলেন যে এই ধরনের আধুনিক পোশাক ভারতীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী। তবে সমালোচকদের সেই ট্রোলের কড়া জবাব দিয়ে কৃতি স্যানন প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, পোশাকের কাটিং দিয়ে নারীর সংস্কার ও সংস্কৃতির বিচার করার এই অসুস্থ মানসিকতা কবে বন্ধ হবে? আর এবার অভিনেত্রীর সেই সাহসিকতাপূর্ণ অবস্থানকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তাঁর পাশে এসে দাঁড়ালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা শীর্ষস্থানীয় কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী।

কৃতি স্যাননের পোশাক ও সংস্কৃতি সংক্রান্ত স্পষ্ট অবস্থানটি নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করে এক তীব্র ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী। তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় লিখেছেন, “একজন নারী জীবনের কোন পথটি বেছে নেবেন, কী ধরনের পোশাক পরিধান করবেন কিংবা কোথায় যাতায়াত করবেন— তা একান্তভাবেই তাঁর নিজস্ব ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পরিসর। স্বাধীন ও মুক্তচিন্তার পোশাক পরার কারণে কিংবা নিজের পছন্দমতো জীবনযাপনের জন্য নারীদের ওপর অনৈতিক কটাক্ষ বা সোশ্যাল মিডিয়া ট্রোলিং অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।” সেই সঙ্গে একটি বিশেষ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে সমাজের গভীরে গেঁড়ে বসা পুরুষতান্ত্রিক ও সংকীর্ণ মানসিকতার অবিলম্বে বিলোপ ঘটানোর জোরালো বার্তা দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে রাহুলের এই মন্তব্য মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে এবং নেটিজেনদের একটি বড় অংশ এর তীব্র সমর্থন জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, সমাজমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা এবং সামাজিক ও আইনি চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে সংশ্লিষ্ট অলঙ্কার প্রস্তুতকারক ব্র্যান্ডটি। সংস্থার অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে যে তারা সমস্ত ডিজিটাল ও প্রচার মাধ্যম থেকে ওই বিতর্কিত বিজ্ঞাপনটি সম্পূর্ণভাবে তুলে নিচ্ছে। সংস্থার বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, “ভারতীয় সংস্কৃতি, সনাতন ঐতিহ্য এবং লোকোৎসবের প্রতি আমাদের অসীম শ্রদ্ধা রয়েছে। একটি ব্র্যান্ড হিসেবে আমরা সবসময় পরিবার ও সমাজের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আনন্দ উদযাপনে বিশ্বাসী। তবে দেশের সাধারণ মানুষের গণআবেগ ও ঐতিহ্যকে সর্বাগ্রে সম্মান জানিয়েই আমরা এই বিজ্ঞাপনটি সমস্ত মাধ্যম থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” কৃতির সাহসিকতা, রাহুলের রাজনৈতিক সমর্থন এবং ব্র্যান্ডের নতিস্বীকার— সব মিলিয়ে এই ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে নতুন করে নারী স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকার নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।