দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে বেকার যুবক-যুবতীদের ‘যুবসাথী’ প্রকল্প নিয়ে বিশেষ বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যাঁরা দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এখনও ভাতার টাকা পাননি, তাঁদের আশ্বস্ত করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের নতুন রোডম্যাপ তুলে ধরলেন তিনি।
টাকা কেন আসছে না? অভিষেক যা বললেন: এদিন জনসভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকার করে নেন যে, অনেক আবেদনকারী ফর্ম পূরণ করা সত্ত্বেও এখনও প্রকল্পের সুবিধা বা ভাতার টাকা পাননি। তিনি স্পষ্ট করেন:
যাচাই প্রক্রিয়া: প্রশাসন প্রতিটি আবেদন খুঁটিয়ে যাচাই করছে যাতে প্রকৃত বেকার যুবক-যুবতীরাই এই সুবিধা পান।
আশ্বাস: অভিষেক সাফ জানান, “যাঁরা ফর্ম ফিলাপ করেছেন এবং যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন, তাঁদের চিন্তা করার কারণ নেই। খুব শীঘ্রই সরাসরি তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যুবসাথী প্রকল্পের ১৫০০ টাকা ঢুকতে শুরু করবে।”
বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ: কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “দিল্লি টাকা আটকে দিলেও রাজ্য সরকার নিজের তহবিল থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং যুবসাথীর টাকা দিচ্ছে এবং দিয়ে যাবে।”
যুবসাথী প্রকল্পের বিশেষ দিক: উল্লেখ্য, ২০২৬-এর বাজেটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকারদের জন্য মাসিক ১৫০০ টাকা ভাতার এই ঘোষণা করেছিলেন। মাধ্যমিক পাস করা রাজ্যের বেকার তরুণ-তরুণীরা যাতে চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য পান, সেটাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়েও বড় বার্তা: যুবসাথীর পাশাপাশি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়েও সাগর থেকে হুংকার দেন অভিষেক। তিনি দাবি করেন, এই প্রকল্প আজ বাংলার মা-বোনেদের কাছে এক রক্ষাকবচ। বিরোধীরা হাজারো অপপ্রচার করলেও সরকার এই প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
রাজনৈতিক তাৎপর্য: নির্বাচনের ঠিক আগে বেকারদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে এবং তরুণ ভোটারদের মন জয় করতে অভিষেকের এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ডিবিটি (DBT)-র মাধ্যমে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।





