ইতিহাসের পাতায় তাঁর নাম খোদাই করা আছে ‘ডাবল সারভাইভার’ হিসেবে। ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট। পেশার তাগিদে হিরোশিমায় ছিলেন জাপানি ইঞ্জিনিয়ার সুতোমু ইয়ামাগুচি। ঠিক যখন তিনি শহর ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই আকাশ থেকে নেমে আসে যমদূত ‘লিটল বয়’। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হিরোশিমা পরিণত হয় শ্মশানে। বিস্ফোরণস্থল থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে ছিলেন ইয়ামাগুচি। শরীরের একাংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে গেলেও অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান তিনি।
ক্ষতবিক্ষত শরীর আর ব্যান্ডেজ নিয়ে কোনোমতে ট্রেন ধরে নিজের শহর নাগাসাকিতে ফেরেন ইয়ামাগুচি। কিন্তু নিয়তি যেন তাঁর সঙ্গে নিষ্ঠুর খেলায় মেতেছিল। ৯ আগস্ট, যখন তিনি তাঁর অফিসে বসে হিরোশিমার সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা সহকর্মীদের বলছিলেন, তখনই দ্বিতীয়বার কেঁপে ওঠে আকাশ। নাগাসাকির ওপর আছড়ে পড়ে দ্বিতীয় পরমাণু বোমা ‘ফ্যাট ম্যান’। এবারও তিনি বিস্ফোরণ কেন্দ্র থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরত্বে ছিলেন। চারদিকে লাশের পাহাড় আর তেজস্ক্রিয় ধোঁয়ার মাঝেও দ্বিতীয়বার যমরাজকে ফাঁকি দেন ইয়ামাগুচি।
বিশ্বের ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যাঁকে জাপান সরকার সরকারিভাবে ‘নিজিউ হিবাকুশা’ বা দু’টি পারমাণবিক বোমা থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে দীর্ঘকাল অসুস্থ থাকলেও তিনি ৯৩ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। ২০১০ সালে পাকস্থলীর ক্যানসারে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী প্রচার চালিয়ে গিয়েছেন। সুতোমু ইয়ামাগুচির জীবন আমাদের শেখায় যে, ধ্বংসের চেয়েও জীবনের জেদ অনেক বেশি শক্তিশালী।