যন্তর মন্তরে যাওয়া নিষেধ! শর্তে মুক্ত ধ্রুব রাঠি, জেল থেকে এসেই কি বড় বোমা ফাটাবেন সিজেপি প্রধানরা?

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা কারচুপির অভিযোগে উত্তাল রাজধানী দিল্লিতে রবিবারেও অব্যাহত রয়েছে রাজনৈতিক পারদ। শনিবার পুলিশি অভিযানে ব্যাপক ধরপাকড়ের মুখে পড়া জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে অবশেষে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। অন্যদিকে, দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার পর শর্তে মুক্তি পেয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র তিন শীর্ষ নেতা—অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা।
শনিবার গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর বাড়ি থেকে ধ্রুব রাঠিকে আটক করেছিল পুলিশ। তাঁর বাড়ির বাইরে প্রায় ৫০ জন পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসে দীর্ঘ এক ঘণ্টা জেরা করার পর রবিবার সকালে তাঁকে শর্তসাপেক্ষে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশের স্পষ্ট নির্দেশ, তিনি দিল্লির যন্তর মন্তরের ধারে-কাছেও যেতে পারবেন না, অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে। পাশাপাশি, তাঁর বিদেশি নাগরিকত্ব ও ভারতে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নিয়েও নতুন করে আইনি প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এদিকে, শনিবার প্রায় ৭ হাজার আন্দোলনকারীকে আটক করার পর রবিবার ভোরে সিজেপি-র তিন শীর্ষ নেতাকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পেশ করা হয়। আগামী এক বছর শান্তিভঙ্গ না করার শর্তে জামিন পেয়েছেন তাঁরা। মুক্তির পরই সিজেপি নেতৃত্ব আজ রবিবার ফের ‘যন্তর মন্তর চলো’ অভিযানের ডাক দিয়েছে। যার জেরে মধ্য দিল্লি জুড়ে আজ সকাল থেকেই নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যন্তর মন্তরমুখী রাস্তাগুলিতে ব্যারিকেড ও বিপুল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে রবিবার সকাল থেকেই মেট্রো স্টেশনগুলির গেট খুলে দেওয়া হয়েছে এবং রেল পরিষেবা স্বাভাবিক করা হয়েছে। তবে স্টেশনে স্টেশনে কড়া নজরদারি বজায় রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সিজেপি-র এই অনমনীয় মনোভাব এবং রবিবারের মেগা কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।