‘বিমান ছিনতাই করে টার্মিনালে আছড়ে ফেলার ছক!’ দুবাই-তেল আভিভ ফ্লাইটে কে এই ভারতীয় হিরো?

মাঝআকাশে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী হামলার শিকার হয়েও অসীম সাহসিকতা, বুদ্ধিমত্তা ও মানসিক জোরের পরিচয় দিয়ে ১৭৪ জন যাত্রী এবং ক্রু সদস্যদের নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইটে এই মর্মান্তিক ঘটনার পর তাঁকে ইজরায়েলের সর্বোচ্চ নাগরিক সাহসিকতা পুরস্কার ‘প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড ফর সিভিলিয়ান হিরোয়িজম’-এ ভূষিত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ ব্যক্তিগতভাবে চিঠি পাঠিয়ে ক্যাপ্টেনের এই অসামান্য বীরত্বের প্রশংসা করেছেন এবং সুস্থ হয়ে উঠলে জেরুজালেমে এসে এই সম্মান গ্রহণ করার বিশেষ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। গুরুতর জখম ক্যাপ্টেন স্মিত বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আবু ধাবির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভের দিকে রওনা দিয়েছিল। ওমানের আকাশসীমার ওপর দিয়ে ওড়ার সময় ককপিটের ভেতরে হঠাৎই মূল ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রাণঘাতী হামলা চালান ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিমানটি ছিনতাই করে তেল আভিভের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের টার্মিনালে সজোরে আছড়ে ফেলার এক ভয়ংকর পরিকল্পনা ছিল হামলাকারীর। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম হওয়া সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন স্মিত মানসিক বল হারাননি। তিনি অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। দরজা খুলতেই কেবিনের সতর্ক যাত্রী ও বিমানকর্মীরা দ্রুত ককপিটে ঢুকে ওই কো-পাইলটকে জাপটে ধরে নিস্তেজ করে ফেলেন। এরপর বিমানটিকে দ্রুত সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয় এবং পরবর্তীতে বিমানের ১৭৪ জন যাত্রী ও ৬ জন ক্রু সদস্যকে সম্পূর্ণ নিরাপদে ইজরায়েলে পৌঁছে দেওয়া হয়।

ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ তাঁর চিঠিতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্মৃতি স্মরণ করে ক্যাপ্টেনের এই বীরত্বকে ভারতীয় সেনার ঐতিহাসিক সাহসিকতার সঙ্গে তুলনা করেছেন। ১৯১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় অটোমান বাহিনীর হাত থেকে হাইফা শহর মুক্ত করতে ভারতীয় অশ্বারোহী বাহিনী যে অসামান্য অবদান রেখেছিল, সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ইজরায়েলের ইতিহাসে ক্যাপ্টেন স্মিতের নামও একইভাবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। দুই দেশের সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার জায়গায় স্মিতের এই আত্মত্যাগ ও ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই ঘটনায় বিমানের ভেতরে থাকা যে ছয়জন ইজরায়েলি নাগরিক দুষ্কৃতীকে পরাস্ত করতে সহায়তা করেছিলেন, ইজরায়েল প্রশাসন ইতিমধ্যেই তাঁদের সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে বিশেষ নাগরিক সম্মান প্রদান করেছে। স্মিত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলেই তাঁকেও আনুষ্ঠানিকভাবে এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে। নিজের জীবন বাজি রেখে অপরের প্রাণ রক্ষায় অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তিদেরই এই বিশেষ সম্মান দেওয়া হয়। ক্যাপ্টেনের এই দৃষ্টান্তমূলক সাহসের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও।