বিশ্বের জ্বালানি রাজনীতির রাশ এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতের মুঠোয়। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণের পর সে দেশের বিশাল তেলের ভাণ্ডার কার্যত আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে। আর এই পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য বড় খবর শোনাল ট্রাম্প প্রশাসন। রাশিয়ার থেকে তেল কেনার বিষয়ে দিল্লির ওপর চাপ বাড়ালেও, ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনার জন্য ভারতকে পূর্ণ ছাড়পত্র দিতে চায় ওয়াশিংটন।
মার্কিন এনার্জি সেক্রেটারি ক্রিস্টোফার রাইট এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ভারত চাইলে ভেনেজুয়েলা থেকে প্রয়োজনীয় তেল আমদানি করতে পারবে। তবে এর পেছনে রয়েছে একটি বড় শর্ত। ফক্স বিজনেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্রিস্টোফার রাইট স্পষ্ট করেছেন যে, ভেনেজুয়েলার তেল এখন থেকে সরাসরি সে দেশ বিক্রি করবে না; বরং আমেরিকার সরকার এটি বাজারজাত করবে। তেল বিক্রির সমস্ত অর্থ জমা হবে আমেরিকার নিয়ন্ত্রিত একটি বিশেষ অ্যাকাউন্টে, যাতে সেই টাকা ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা যায় এবং কোনও দুর্নীতি না হয়।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসে বড় বড় তেল সংস্থাগুলোর কর্তাদের সঙ্গে এক হাই-প্রোফাইল বৈঠকে বসেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তিনি ঘোষণা করেন, মার্কিন তেল সংস্থাগুলো শীঘ্রই ভেনেজুয়েলার ভেঙে পড়া পরিকাঠামো পুনর্গঠনে অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। ট্রাম্পের সাফ কথা, “ভেনেজুয়েলার তেলে ভেনেজুয়েলার আর কোনও অধিকার নেই। তেল সংস্থাগুলো সরাসরি আমেরিকার সঙ্গেই চুক্তি করবে।”
ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন যে, ইতিমধ্যেই ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ভেনেজুয়েলা থেকে আমেরিকায় আনা হয়েছে এবং আরও ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আনার প্রস্তুতি চলছে। পরের সপ্তাহে ফের তেল সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বিনিয়োগ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের চূড়ান্ত পরিকল্পনা করবেন তিনি। অর্থাৎ, রাশিয়ার তেলের বিকল্প হিসেবে ভারতকে এখন ভেনেজুয়েলার পথ দেখাচ্ছে ওয়াশিংটন, যা বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে।