“যতদিন না সঠিক হাত পাচ্ছি, নিয়ন্ত্রণ আমাদেরই”, ৪ বারের এয়ারস্ট্রাইকে মৃত ৪০, এবার বিস্ফোরক ট্রাম্প!

ভেনেজুয়েলার মাটিতে মার্কিন এয়ারস্ট্রাইক কেবল প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করেই থেমে থাকেনি, তা কেড়ে নিয়েছে বহু প্রাণ। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর দাবি অনুযায়ী, শনিবার ভোরের সেই ভয়াবহ হামলায় সেনাসদস্য এবং সাধারণ নাগরিকসহ কমপক্ষে ৪০ জন নিহত হয়েছেন।

রক্তক্ষয়ী অভিযানের নেপথ্যে

ভেনেজুয়েলার এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিকের সূত্র ধরে প্রকাশিত রিপোর্টে জানানো হয়েছে, গত ৩ জানুয়ারি রাতভর চালানো এই হামলায় সাধারণ মানুষও রক্ষা পায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই আক্রমণের দায় স্বীকার করে নিলেও, তিনি দাবি করেছেন যে কোনো মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়নি। তবে ভেনেজুয়েলার মাটিতে ঝরা এই রক্ত আন্তর্জাতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ভেনেজুয়েলার ভাগ্য এখন ট্রাম্পের হাতে?

মাদুরোকে সস্ত্রীক বন্দি করার পর ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ আরও চাঞ্চল্যকর। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমানে ওয়াশিংটন অস্থায়ীভাবে ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে। ট্রাম্পের হুঙ্কার:

“যতক্ষণ না নিরাপদ ও সঠিক কোনো ন্যায়সঙ্গত শক্তির হাতে ভেনেজুয়েলাকে তুলে দিতে পারছি, ততক্ষণ এই দেশ আমাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।”

নিউ ইয়র্কে মাদুরো: শুরু হচ্ছে বিচার

শনিবার সন্ধ্যায় মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে বহনকারী বিমানটি নিউ ইয়র্কের স্টুয়ার্ট এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বেসে অবতরণ করেছে। জানা গেছে, আগামী সপ্তাহেই ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার মামলায় বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

কেমন ছিল সেই ‘দুর্ভেদ্য’ অপারেশন?

ট্রাম্প এই অভিযানকে আমেরিকার সামরিক আধিপত্যের প্রমাণ হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, মাদুরো একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত দুর্গে লুকিয়ে ছিলেন, যার দরজা ছিল নিরেট স্টিলের। মার্কিন কমান্ডোরা সেই ব্যারিকেড ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ে। অভিযানে একটি মার্কিন হেলিকপ্টার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো বিমান ধ্বংস হয়নি।

ভেনেজুয়েলার সরকার এই ঘটনাকে একটি স্বাধীন দেশের ওপর নগ্ন আগ্রাসন হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে হোয়াইট হাউস একে দেখছে ‘অপ্রিয় একনায়ক’ থেকে মুক্তির পথ হিসেবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy