অভিনেতা রাহুল মুখোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া কাটতে না কাটতেই এবার বিচার এবং প্রতিবাদের দাবিতে সরব হলো আর্টিস্ট ফোরাম। অভিযোগের আঙুল উঠেছে বিখ্যাত প্রযোজক তথা লেখিকা লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর দিকে। রাহুলের মৃত্যুর পর থেকেই টলিপাড়ার একাংশ দাবি করছিল যে, কাজের অতিরিক্ত চাপ এবং দীর্ঘক্ষণ শুটিংয়ের ধকল সইতে পারছিলেন না অভিনেতা।
আর্টিস্ট ফোরামের কড়া সিদ্ধান্ত: আজ এক জরুরি বৈঠকে বসেন আর্টিস্ট ফোরামের কার্যনির্বাহী সদস্যরা। বৈঠক শেষে যে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে তা ওই প্রযোজনা সংস্থার জন্য যথেষ্ট উদ্বেগজনক:
শোকজ এবং তদন্ত: রাহুল যে মেগা সিরিয়ালে অভিনয় করতেন, সেই সেটের পরিবেশ এবং সেখানে অভিনেতাদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। কোনো গাফিলতি ধরা পড়লে সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শুটিংয়ের সময়সীমা নিয়ে কড়াকড়ি: আর্টিস্ট ফোরাম স্পষ্ট করে দিয়েছে, কোনো অভিনেতাকে দিয়ে ১০-১২ ঘণ্টার বেশি জোর করে কাজ করানো যাবে না। ম্যাজিক মোমেন্টস-এর সেটে এই নিয়ম মানা হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মানসিক স্বাস্থ্য সেল: ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবিলম্বে প্রতিটি সেটে কাউন্সিলর রাখতে হবে এবং কোনো শিল্পীর ওপর মানসিক চাপ দেওয়া হলে ফোরাম সরাসরি ওই ইউনিটের কাজ বন্ধ করে দেবে।
শিল্পীদের ক্ষোভ: ফোরামের বহু সদস্যের অভিযোগ, নামী প্রযোজনা সংস্থাগুলো টিআরপির ইঁদুর দৌড়ে টেকনিশিয়ান এবং শিল্পীদের ওপর অমানবিক চাপ সৃষ্টি করে। রাহুলের মৃত্যু যেন সেই সুপ্ত ক্ষোভের বারুদে আগুন দিয়েছে। প্রিয়াঙ্কা সরকার সহ বহু জনপ্রিয় তারকা ইতিমধ্যেই এই অকাল মৃত্যুর জন্য কর্মক্ষেত্রের অব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন।
প্রযোজনা সংস্থার অবস্থান: যদিও ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে ইন্ডাস্ট্রির একটি বড় অংশ মনে করছে, এই ইস্যু যদি বড় আকার ধারণ করে, তবে টলিউডের শুটিং ব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে।
রাহুলের মৃত্যু কি সত্যিই এক বড় পরিবর্তনের সূচনা করবে, যেমনটা চেয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা সরকার? আর্টিস্ট ফোরামের এই কড়া অবস্থান সেই পথেই প্রথম পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।





