চিনের পরেই নাম লেখাতে চলেছে ভারত! মেট্রো রেলের প্রসারে দেশজুড়ে ইতিহাস গড়ার পথে মোদি সরকার

দেশের সার্বিক যাতায়াত ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে ভারতীয় মেট্রো রেল নেটওয়ার্ক ক্রমশ এক বলিষ্ঠ রূপ নিচ্ছে। দেশের একাধিক শহরকে দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আনতে প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে কেন্দ্র। শনিবার ইন্দোরে মেট্রো রেলের সম্প্রসারিত অংশের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ভারতের মেট্রো ব্যবস্থা নিয়ে এক অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ ও আশাব্যঞ্জক বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর। তাঁর দাবি, আর মাত্র দু’বছরের মধ্যেই আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে বিশ্বমঞ্চে দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থান দখল করবে ভারত।

কত দূর ছড়িয়ে রয়েছে ভারতের মেট্রো?

অনুষ্ঠানে তথ্য তুলে ধরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ১,৩৮৬ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রো নেটওয়ার্ক রয়েছে। সেখানে ইন্দোরের নতুন লাইন যুক্ত হওয়ার পর ভারতের মেট্রো নেটওয়ার্কের মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে ১,১৭০ কিলোমিটারে। অর্থাৎ, আমেরিকার ঠিক ঘাড়ের কাছেই পৌঁছে গেছে ভারত। মন্ত্রীর দৃঢ় বিশ্বাস, আগামী মাত্র দুই বছরের মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে চিনের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেট্রো রেল নেটওয়ার্কের দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে ভারত।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেট্রো রেল নেটওয়ার্ক রয়েছে চিনের দখলে। সে দেশের ৫০টিরও বেশি শহরকে সংযুক্ত করা এই নেটওয়ার্কের মোট পরিধি প্রায় ৮,০০০ কিলোমিটার। এককভাবে চিনের সাংহাই শহরের মেট্রো রুটই ৮০০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে। ১,১৭০ কিলোমিটার নিয়ে ভারত বর্তমানে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও যেভাবে পরিকাঠামো সম্প্রসারিত হচ্ছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে বড় রেকর্ড গড়ার পথে দেশ।

‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য

প্রায় ২,৮৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ইন্দোর মেট্রো প্রকল্পের উদ্বোধনে মনোহর খট্টর বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, মেট্রো কেবল যাতায়াতের একটি মাধ্যম মাত্র নয়, এটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার অন্যতম বড় হাতিয়ার। এর এই দ্রুত সম্প্রসারণ মূলত ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গেই সরাসরি যুক্ত।

প্রসঙ্গত, দেশের মেট্রো পরিকাঠামোর এই সাফল্যের আলোচনার পাশাপাশি স্মরণ করা যায় ভারতের প্রথম মেট্রো শহর কলকাতার গৌরবময় ইতিহাসকেও। উইকিপিডিয়ার তথ্যানুসারে, ১৯২০-এর দশকে কলকাতা মেট্রোর প্রাথমিক পরিকল্পনার বীজ বপন হলেও মূল নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ১৯৭০-এর দশকে। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে ভবানীপুর (বর্তমান নেতাজি ভবন) থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত দেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ রুটে মেট্রো চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে সেই পরিধি ও প্রযুক্তির হাত ধরেই গোটা দেশ জুড়ে এক বিপ্লব ঘটতে চলেছে।