মোবাইলে ‘এপিকে’ ফাইল নামালেই সর্বস্বান্ত! ভিশিং কলের ফাঁদে ৭৪ লক্ষ লুট, জালে যুবক

কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের বড় সাফল্য। প্রায় দেড় বছর আগে ঘটা ৭৪ লক্ষ টাকার বিশাল ব্যাংক জালিয়াতির কিনারা করতে গিয়ে বিহারের গয়া থেকে মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করলেন লালবাজারের আধিকারিকরা। ধৃতের নাম প্রশান্ত কুমার সিং (২৬)। সে বিহারের চেরকি থানার অন্তর্গত জইতিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
যেভাবে চলত প্রতারণা: তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশের সাইবার সেল জানতে পেরেছে, প্রশান্ত এবং তার সঙ্গীরা অত্যন্ত সুনিপুণভাবে সাধারণ মানুষকে বোকা বানাত। তাদের কার্যপদ্ধতি ছিল নিম্নরূপ:
ভিশিং কল: ব্যাংকের প্রতিনিধি সেজে ফোন করে ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জন করা হতো।
এপিকে (APK) ফাইল: নানা অজুহাতে গ্রাহকদের মোবাইলে একটি নির্দিষ্ট এপিকে ফাইল ইনস্টল করতে বলা হতো।
গোপন তথ্য চুরি: অ্যাপটি ইনস্টল করামাত্রই গ্রাহকের মোবাইলের নিয়ন্ত্রণ চলে যেত প্রতারকদের হাতে, সেখান থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের যাবতীয় গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হতো।
৭৪ লক্ষের অংক ও দীর্ঘ তদন্ত: পুলিশ সূত্রে খবর, এই চক্রের খপ্পরে পড়ে অন্তত ৭৪ লক্ষ ৩৩ হাজার ৩৬৭ টাকা খোয়া গিয়েছিল বিভিন্ন ব্যক্তির। ঘটনায় শেক্সপিয়র সরণি থানায় মামলা দায়ের হয়। এরপর টানা দেড় বছর ধরে ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এবং আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে তদন্ত চালায় লালবাজারের গোয়েন্দারা। অবশেষে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রশান্তের অবস্থান চিহ্নিত করে শুক্রবার দুপুরে গয়ায় অভিযান চালানো হয়।
তদন্তের পরবর্তী ধাপ: কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত নগরপাল কুণাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, ধৃতকে জেরা করে এই বড় চক্রের বাকি সদস্যদের খুঁজে বের করাই এখন পুলিশের মূল লক্ষ্য। টাকা পাচারের রুট এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত, তা জানতে শনিবার ধৃতকে আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে তদন্তকারী দল।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, অচেনা উৎস থেকে পাঠানো কোনো এপিকে ফাইল ডাউনলোড না করাই এই ধরনের জালিয়াতি থেকে বাঁচার সেরা উপায়। পুলিশের এই সাফল্য সাইবার অপরাধীদের দমনে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।