মোদী-শাহদের হারাতে সোজা দিল্লির রাস্তায় মমতার হুংকার! খাস কলকাতায় রাতভর তাণ্ডব নিয়ে কেন্দ্রকে চরম বার্তা

রাজ্যজুড়ে লাগাতার রাজনৈতিক সন্ত্রাস, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা এবং কেন্দ্রীয় দমনপীড়নের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে সরাসরি দিল্লিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভানেত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার জন্মাষ্টমীর আগের দিন ফেসবুক লাইভে এসে তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, এই অত্যাচার ও দমনপীড়ন অবিলম্বে না থামলে তিনি ঘরে বসে থাকবেন না; দরকার হলে খোদ দিল্লিতে কিংবা বিজেপি নেতাদের বাড়ির সামনে গিয়ে ধর্নায় বসবেন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে শুরু করে রাজ্য পুলিশের একাংশের ভূমিকা নিয়ে এদিন বেজায় ক্ষোভপ্রকাশ করেন মমতা। তাঁর সোজা সাপটা অভিযোগ, দিল্লিতে বসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ লুট করেছেন। সুকৌশলে বাংলার শিক্ষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি জনগণনার নামে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা না করেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে তোপ দাগেন তিনি।
রাজ্যজুড়ে চলা হিংসার খতিয়ান তুলে ধরে মমতা জানান, কোচবিহার ও বাঁকুড়া থেকে শুরু করে খাস কলকাতার রাজপথেও গণতন্ত্রের টুঁটি টিপে ধরার চেষ্টা চলছে। প্রায় চার হাজার দলীয় কার্যালয় জোরপূর্বক দখল কিংবা লুট করা হয়েছে। বিশেষ করে কলকাতার শেক্সপিয়র সরণি থানার নাকের ডগায় মাঝরাতে তৃণমূলের আইটি অফিসে হামলা চালিয়ে চারজনকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং কম্পিউটার ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র লুট করা হয়েছে। দুষ্কৃতীরা আগে থেকেই জানত যে পুলিশ এই বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেবে না, তাই তারা এই সাহস দেখানোর সুযোগ পেয়েছে বলে ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি।
পুলিশ প্রশাসনের একাংশের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ ভক্ষক নয়, রক্ষক হিসেবে কাজ করুক। তৃণমূল করা যাবে না—এই ধরনের কথা বলার অধিকার পুলিশকে কে দিল? তবে সমস্ত পুলিশকর্মী এক নন উল্লেখ করে তিনি জানান, যাঁরা সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছেন এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রান করছেন, তাঁদের তিনি কোনোভাবেই সম্মান করেন না। কোচবিহারের দিনহাটায় এক শিশুকন্যার ওপর অমানবিক অত্যাচার এবং বাঁকুড়া থেকে গড়বেতায় আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়া যুবকদের হেনস্তার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন তিনি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি ও বারাসত বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার প্রসঙ্গও টেনে আনেন মমতা। যাদবপুরের একটি খবরকে কেন্দ্র করে নামী সংবাদমাধ্যমের অফিসে হামলার তীব্র সমালোচনা করে তিনি জানান, গেরুয়া মানে ত্যাগ, কিন্তু সেই শব্দ ব্যবহার করায় এত অসহিহ্নতা কেন দেখা যাচ্ছে? ডিজিটাল মিডিয়ার কর্মীদের গ্রেফতার এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার প্রবণতাকেও একহাত নেন তিনি। নেতাকর্মীদের নামে ১৪ হাজারের বেশি মিথ্যা মামলা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা করে মমতা বলেন, সামান্য কিছু পাবলিসিটি আর ফটোশপ দিয়ে দেশ বা রাজ্য চালানো যায় না। বিজেপিকে সতর্ক করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই লুটের রাজনীতি একদিন তাদের নিজেদের সংগঠনকেই গ্রাস করবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পংক্তি ধার করে বিরোধীদের উদ্দেশে তিনি মনে করিয়ে দেন, রাজনৈতিক ক্ষমতা কোনোদিনই চিরস্থায়ী নয় এবং সাধারণ মানুষের আদালতেই এর চূড়ান্ত বিচার হবে।