ভোটার তালিকা থেকে বাদ রাঘব চাড্ডার নাম! ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ নাকি অন্য কিছু? বিস্ফোরক তথ্য সামনে

বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) চলাকালীন পঞ্জাবের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আম আদমি পার্টি (AAP) ছেড়ে সদ্য ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগ দেওয়া রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা সরাসরি পঞ্জাবের আপ সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। যদিও তাঁর সমস্ত দাবি উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল।

গত ১৩ আগস্ট প্রকাশিত পঞ্জাবের খসড়া ভোটার তালিকায় রাঘব চাড্ডার নাম ‘অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত অথবা ডুপ্লিকেট’ (ASDD) ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে এবং তাঁর নামের পাশে ‘স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত’ (Permanently Shifted) বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই তালিকা প্রকাশের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন রাঘব। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি দাবি করেন, তিনি পঞ্জাব থেকেই নির্বাচিত রাজ্যসভার সাংসদ এবং তাঁর ভোটার আইডি মোহালীতে নথিভুক্ত রয়েছে। তা সত্ত্বেও খসড়া তালিকায় তাঁকে যেভাবে ‘স্থানান্তরিত’ দেখানো হয়েছে, তা নেহাত কোনো সাধারণ কেরানির ভুল নয়।

রাঘবের অভিযোগ, দুর্নীতিগ্রস্ত আম আদমি পার্টি ছাড়ার পর থেকেই দলীয় নেতৃত্ব তাঁর ওপর ক্ষোভে ফুটছে। পঞ্জাব সরকারের প্রশাসনিক ও পুলিশি যন্ত্রকে কাজে লাগিয়ে দলত্যাগীদের নিশানা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এটি যেহেতু কেবলই একটি খসড়া তালিকা এবং চূড়ান্ত তালিকা আগামী অক্টোবর মাসে প্রকাশিত হবে, তাই নিয়ম মেনে সংশোধনের কাজ শুরু করে দিয়েছেন বলে জানান রাঘব। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকার ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদের নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলেও তোপ দাগেন তিনি।

অন্যদিকে, রাঘব চাড্ডার এই সমস্ত অভিযোগ এক লহমায় খারিজ করে দিয়েছে পঞ্জাব সরকার ও আপ নেতৃত্ব। পঞ্জাব সরকারের এক শীর্ষ আধিকারিক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করছে নির্বাচন কমিশন, এখানে রাজ্য সরকারের কোনো হাত নেই।

আপের তরফে আরও তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলা হয়েছে, রাঘব চাড্ডা দীর্ঘদিন ধরে পঞ্জাবে থাকেন না এবং তিনি পেছনের দরজা দিয়ে দিল্লিতে নিজের ভোটার নাম নথিভুক্ত করানোর চেষ্টা করছিলেন। নিজস্ব দায়িত্বে ভোটার তালিকা পরিবর্তন বা স্থানান্তরিত না করার দায় সম্পূর্ণ তাঁর নিজের। আপের দিল্লি ইউনিটের সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ আবার এক ধাপ এগিয়ে দাবি করেছেন যে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার জেরে রাঘবের রাজ্যসভায় সাংসদ পদ খারিজ হওয়ার মতো আইনি প্রশ্নের মুখেও পড়তে পারেন।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের রাজ্যসভা নির্বাচনের হলফনামায় রাঘব নিজেকে দিল্লির রাজিন্দর নগরের ভোটার হিসেবে দেখিয়েছিলেন। পরবর্তীতে পঞ্জাব থেকে সাংসদ হওয়ার পর তিনি মোহালীতে নিজের ভোটার নাম স্থানান্তরিত করেন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটেও সেখান থেকেই ভোট দেন। এখন আগামী ১২ অক্টোবর পঞ্জাবের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে এই রাজনৈতিক জল কতদূর গড়ায়, সেটাই দেখার।