অতীতে বহুবার বিতর্কিত মন্তব্য করে শিরোনামে এসেছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনও সেই ধারা বজায় রেখে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন। এই মন্তব্যের জেরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক কী বললেন?
সংসদের বাইরে সংবাদ মাধ্যমের সামনে শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দুটি বড় দাবি করেন:
১. বিজেপি প্রসঙ্গে: “যতদিন নরেন্দ্র মোদী থাকবেন, ততদিন বিজেপি থাকবে। নরেন্দ্র মোদী না থাকলে বিজেপিও থাকবে না, ক্ষমতা থেকেই চলে যাবে।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৪ সালের আগে রাজনাথ সিং, অমিত শাহ, নিতিন গডকড়ীর মতো নেতারা থাকা সত্ত্বেও কেউ মোদীর মতো সাফল্য আনতে পারেননি।
২. তৃণমূল প্রসঙ্গে: “কিন্তু যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন, কেউ কিছু বদলাতে পারবে না। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যার উপর সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করে, তাঁর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”
বর্ষীয়ান এই নেতার কথায় স্পষ্ট বার্তা— তৃণমূল মানে মমতা, আর মমতা মানেই তৃণমূল। দলের অন্দরের ‘মমতা-পরবর্তী’ নেতৃত্ব নিয়ে চলা সব জল্পনা যেন এক বাক্যে তিনি দূর করে দিতে চাইলেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্যকে বিজেপি ইতিমধ্যেই হাতিয়ার করতে শুরু করেছে।
-
বিজেপির আক্রমণ: দিলীপ ঘোষ থেকে শুরু করে শুভেন্দু অধিকারী— সকলেই বলছেন, ‘দেখুন, তৃণমূলের আসল চেহারা বেরিয়ে পড়েছে।’ অর্থাৎ, এটি প্রমাণ করে যে তৃণমূল এখনও ‘এক ব্যক্তি-কেন্দ্রিক’ দল।
-
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে দলের পুরনো সৈনিকরা প্রকাশ্যে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়া যতদিন আছে, ততদিন অন্য কেউ দলে মাথা তুলতে পারবে না।
-
তৃণমূলের সাফাই: যদিও তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী এই মন্তব্যকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। বিজেপিকে নিশানা করে তাঁর বক্তব্য, গেরুয়া শিবির আসলে মেনে নিয়েছে যে এরাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাস্ত করা সম্ভব নয়।