“মোদীর গ্যারান্টি মানেই জিরো ওয়ারেন্টি!” সাগর থেকে বিজেপি-কে তুলোধনা করে বড় প্রতিশ্রুতি অভিষেকের

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মহারণে ঘাসফুল শিবিরের পাল্লা ভারী করতে আজ সাগর দ্বীপে নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সাগরের মাটি থেকে এদিন একদিকে যেমন কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুললেন, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘গ্যারান্টি’ স্লোগানকে তীব্র বিদ্রুপ করে তাকে ‘জিরো ওয়ারেন্টি’ বলে তকমা দিলেন তিনি।

মোদীর গ্যারান্টিকে নিশানা: এদিন জনসভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “নির্বাচন এলেই মোদীজি গ্যারান্টির কথা বলেন। কিন্তু বাংলার মানুষ জানে, সেই গ্যারান্টি আসলে জিরো ওয়ারেন্টি। ১০ বছর ধরে অনেক গ্যারান্টি দিয়েছে দিল্লি, কিন্তু বাংলার রাস্তার টাকা বা আবাস যোজনার টাকা কি এসেছে?” তিনি দাবি করেন, মোদীর প্রতিশ্রুতি কেবল নির্বাচনের প্রচারেই সীমাবদ্ধ, বাস্তবায়নে নয়।

সাগরের উন্নয়নের বিশেষ গ্যারান্টি: সাগরের মানুষের দীর্ঘদিনের চাওয়া-পাওয়া এবং মুড়িগঙ্গা সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক এক বড় প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন:

  • “সাগর বিধানসভায় আমাদের প্রার্থীকে জিতিয়ে আনুন। আমি কথা দিচ্ছি, সাগরের সামগ্রিক উন্নয়নের পুরো দায়ভার আমার। আগামী কয়েক বছরে সাগরের খোলনলচে বদলে দেবে তৃণমূল সরকার।”

  • পর্যটন থেকে শুরু করে পরিকাঠামো— সাগরের প্রতিটি ঘরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব তিনি নিজে কাঁধে তুলে নেনে বলে জানান।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও যুবসাথীর সাফল্য: বক্তৃতার মাঝে অভিষেক মনে করিয়ে দেন যে, বিজেপি কেবল ধর্ম আর রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের পেটের কথা ভাবেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং নতুন যুবসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে কীভাবে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন, তার খতিয়ানও পেশ করেন তিনি।

রাজনৈতিক তাৎপর্য: রাজনৈতিক মহলের মতে, সাগরের মতো প্রান্তিক এলাকার উন্নয়নের দায়িত্ব সরাসরি নিজের কাঁধে নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটারদের মধ্যে এক গভীর আস্থার বার্তা দিতে চাইলেন। ২০২৬-এর ভোটে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ— বিজেপি-র ‘গ্যারান্টি’র পালটা তৃণমূলের ‘উন্নয়ন’কেই প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy