মোদি সরকারের বড় উপহার! বিশ্বকর্মা যোজনায় মিলছে ৩ লক্ষ টাকা ঋণ ও দৈনিক ভাতা, কীভাবে আবেদন করবেন জানুন?

ভারতের ঐতিহ্যবাহী কারিগর ও কারুশিল্পীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জীবিকাকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে চালু করা হয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা’ (PM Vishwakarma Yojana)। এমএসএমই (MSME) মন্ত্রকের অধীনে পরিচালিত এই কেন্দ্রীয় খাতের প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল হাত ও ঐতিহ্যবাহী সরঞ্জামের মাধ্যমে কাজ করা পেশাদারদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা প্রদান করা। দক্ষতা প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে আধুনিক সরঞ্জাম কেনার আর্থিক সহায়তা, কম সুদে ঋণ এবং বাজারের সুযোগ—একাধিক দিককে এই প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় মোট ১৮টি প্রথাগত কারিগরি ও পেশাকে স্থান দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ছুতার, নৌকা ও অস্ত্র নির্মাতা, কামার, হাতুড়ি ও সরঞ্জাম বা তালা-চাবি নির্মাতা, কুমোর, ভাস্কর, স্বর্ণকার, মুচি, রাজমিস্ত্রি, ঝুড়ি-মাদুর-ঝাড়ু প্রস্তুতকারক, নারকেলের ছোবড়ার কারিগর, দর্জি, নাপিত, ধোপা, মালাকার, পুতুল-খেলনা প্রস্তুতকারক এবং মাছ ধরার জাল প্রস্তুতকারক। যোগ্য কারিগরদের সরকারি স্বীকৃতিস্বরূপ ‘প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা সার্টিফিকেট’ এবং আইডি কার্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ৫ থেকে ৭ দিনের মৌলিক প্রশিক্ষণ এবং ১৫ দিনের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে, যে সময় প্রশিক্ষণার্থীরা প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে বৃত্তি পান।
কাজের মান বাড়াতে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত টুলকিট কেনার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি, উদ্যোগ উন্নয়নের জন্য সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জামানতহীন ঋণ মাত্র ৫ শতাংশ ভর্তুকিযুক্ত সুদে দুই ধাপে প্রদান করা হয়। প্রথম ধাপে ১ লক্ষ টাকা (১৮ মাস মেয়াদ) এবং দ্বিতীয় ধাপে ২ লক্ষ টাকা (৩০ মাস মেয়াদ) পর্যন্ত ঋণের সুবিধা মেলে। এর পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহ দিতে ক্যাশব্যাক এবং সরকারি ই-মার্কেটপ্লেস (GeM) সহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে ব্র্যান্ডিং ও বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।
আবেদনকারীর বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে এবং তাঁকে নির্দিষ্ট ১৮টি প্রথাগত পেশার কোনো না কোনোটির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকতে হবে। উল্লেখ্য, সরকারি কর্মী বা তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য নন। সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও বিনামূল্যে কমন সার্ভিস সেন্টারের (CSC) মাধ্যমে বায়োমেট্রিক আধার অথেন্টিকেশনের সাহায্যে এই যোজনার জন্য আবেদন করা যায়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী ব্যবসাকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করে কারিগরদের আর্থিক স্বনির্ভর করে তুলতে এই প্রকল্প এক অনন্য পদক্ষেপ।