খোদ প্রধানমন্ত্রীর রাজ্য গুজরাটে এখন রান্নার গ্যাসের জন্য হাহাকার। কেন্দ্রীয় সরকার দেশজুড়ে জ্বালানির পর্যাপ্ত জোগান নিয়ে বারংবার আশ্বাস দিলেও, বাস্তবে গুজরাটের শিল্পাঞ্চল থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জে পরিস্থিতি ভয়াবহ। এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের তীব্র সংকটে জেরবার সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে গিয়েছে যে, সিলিন্ডার পেতে রাত থেকে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন মানুষ, যা অনেককেই কোভিডের সময় অক্সিজেনের জন্য দীর্ঘ লাইনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
এই সংকটের সবথেকে বড় প্রভাব পড়েছে পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর। সুরাট, আমেদাবাদ এবং রাজকোটের মতো শিল্পশহরগুলোতে হাজার হাজার শ্রমিক মেসে বা ভাড়া বাড়িতে থাকেন। রান্নার গ্যাস না থাকায় তাঁদের উনুন জ্বলছে না। হোটেল-রেস্তোরাঁতেও খাবারের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁদের। নিরুপায় হয়ে পেটের টানে ভিন রাজ্য থেকে আসা শ্রমিকরা এখন কাজ ফেলে ভিটেমাটির দিকে রওনা দিচ্ছেন। বাস স্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনগুলোতে বাড়ি ফেরার ভিড় বাড়ছে, যা কোভিডের সময়কার সেই যন্ত্রণাদায়ক পরিযায়নের স্মৃতিকে নতুন করে উসকে দিচ্ছে।
ডিলারদের দাবি, উপর মহল থেকেই জোগানে ঘাটতি রয়েছে। বুকিং করার ১৫-২০ দিন পরেও মিলছে না সিলিন্ডার। অন্যদিকে, কালোবাজারির অভিযোগও উঠছে বিস্তর। গৃহবধূদের ক্ষোভ, “মোদিজি তো উজ্জ্বলার কথা বলেন, কিন্তু এখন যেটুকু আছে সেটুকু পাওয়ার জন্যও আমাদের রাস্তায় রাত কাটাতে হচ্ছে।” বিরোধী দলগুলো এই ইস্যুতে সরব হয়ে জানিয়েছে, ডাবল ইঞ্জিন সরকারের ব্যর্থতাতেই আজ সাধারণ মানুষের হেঁশেলে আগুন লেগেছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বড়সড় গণবিক্ষোভের আশঙ্কা করছে প্রশাসন।