রাজনীতির ময়দানে ‘ইটটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয়’—শনিবার কলকাতায় অমিত শাহের সভার পর ঠিক এই মেজাজেই ধরা দিল তৃণমূল কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মমতা সরকারের ১৫ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ পেশ করার ঠিক ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই পালটা চার্জশিট রিলিজ করল জোড়াফুল শিবির। স্লোগান উঠল— “মোটা ভাই, জবাব চাই!” মণিপুরের অশান্তি থেকে শুরু করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে নারী নির্যাতন এবং বাংলার মনীষীদের অবমাননা—একাধিক ইস্যুতে শাহকে রীতিমতো তুলোধনা করলেন ব্রাত্য বসু ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যরা।
মণিপুর ও নারী সুরক্ষা নিয়ে আক্রমণ: তৃণমূলের পাল্টা চার্জশিটে প্রধান অস্ত্র করা হয়েছে মণিপুর ইস্যুকে। ব্রাত্য বসু বলেন, “যিনি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তাঁর নাকের ডগায় মাসের পর মাস মণিপুর জ্বলল, মহিলাদের নগ্ন করে ঘোরানো হলো, তখন কোথায় ছিল এই চার্জশিট? উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থানে হাতরাস বা উন্নাওয়ের মতো ঘটনা যখন ঘটে, তখন কেন কেন্দ্রীয় বিজেপি মৌনব্রত নেয়?” তৃণমূলের দাবি, এনসিআরবি (NCRB) পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিই নারী নির্যাতনে দেশের শীর্ষে।
মনীষীদের অবমাননা ও বাঙালি আবেগ: তৃণমূলের চার্জশিটে ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গও টেনে আনা হয়েছে। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের তোপ, “বিজেপি মানেই বহিরাগতদের দল, যারা বাংলার সংস্কৃতি বোঝে না। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে যারা আজ সোনার বাংলা গড়ার কথা বলছে, তাদের মুখে উন্নয়নের কথা মানায় না।” বাংলার মনীষীদের বারবার অসম্মান করার জন্য শাহকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে ঘাসফুল শিবির।
আর্থিক বঞ্চনা ও এজেন্সি রাজনীতি: তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি রাজনৈতিকভাবে হার মেনে এখন কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করছে। ১০০ দিনের কাজের টাকা এবং আবাস যোজনার বকেয়া আটকে রেখে বাংলার গরিব মানুষকে ভাতে মারার চেষ্টা করছে দিল্লি। শাহের ‘চার্জশিট’ আসলে এই সব ব্যর্থতা ঢাকা দেওয়ার একটা ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র বলে দাবি করেছে শাসকদল।
বিজেপি যখন দুর্নীতির অভিযোগ তুলছে, তৃণমূল তখন পাল্টা বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোর আইনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক অশান্তির খতিয়ান দিয়ে ময়দান গরম করছে। ২০২৬-এর আগে এই ‘চার্জশিট বনাম পাল্টা চার্জশিট’ যুদ্ধ যে আরও তীব্র হবে, তার আঁচ পাওয়া গেল আজই।