কলকাতার বুকে বিশ্বফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসির সেই বহুচর্চিত সফর আজও ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এক দুঃস্বপ্ন হয়ে রয়ে গেছে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে উত্তাপ ছড়াল রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং আয়োজক শতদ্রু দত্তের আইনি লড়াই ঘিরে। অরূপ বিশ্বাস আপাতত আদালত থেকে সাময়িক স্বস্তি বা রক্ষাকবচ পেলেও, সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন খোদ আয়োজক শতদ্রু দত্ত।
ঘটনার সূত্রপাত বহু বছর আগে, যখন কলকাতায় পা রেখেছিলেন লিওনেল মেসি। চড়া দামে টিকিট কেটে গ্যালারিতে বসে থাকা হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমীর স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল সেদিন। অভিযোগ, মাঠের মধ্যে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, তাঁর অনুগামী এবং অন্যান্য তারকাদের অতি-সক্রিয়তায় সাধারণ দর্শক মেসিকে এক ঝলক দেখার সুযোগটুকুও পাননি। এই বিশৃঙ্খলার জেরে গ্যালারিতে বোতল ছোড়া হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় মেসিকে মাঠ ছাড়তে হয়। টিকিটের টাকা ফেরতের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা শহর। সেই ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতির অভিযোগে পুলিশ আধিকারিকদের শোকজ করা হয় এবং দ্রুত গ্রেফতার করা হয় আয়োজক শতদ্রু দত্তকে।
এর মধ্যেই অরূপ বিশ্বাস ও মেসির একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় অরূপ বিশ্বাস মেসিকে জড়িয়ে ধরে আছেন। এই ছবি ঘিরে রাজনৈতিক ও ক্রীড়ামহলে বিতর্কের ঝড় ওঠে। সমালোচকদের মতে, একজন ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে এই আচরণ ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে এবং মাঠের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে। সম্প্রতি এই সংক্রান্ত মামলায় হাইকোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় অরূপ বিশ্বাসকে। তবে আপাতত তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না বলে রায় দিয়েছে আদালত।
আদালতের এই রক্ষাকবচ মেনে নিতে নারাজ শতদ্রু দত্ত। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আমরা এই রায় পর্যালোচনা করছি। আদালত ভর্ৎসনা করলেও যে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আমরা সুপ্রিম কোর্টে যাব। আমাকে সেদিন ঘটনার এক ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছিল, অরূপ বিশ্বাস কি আইনের ঊর্ধ্বে? তাঁর ক্ষেত্রে কেন এমন ভিন্ন আচরণ?”
আইনি বিশ্লেষকদের মতে, শতদ্রু দত্তের এই পদক্ষেপ মামলাটিকে নতুন মোড় দিতে পারে। অরূপ বিশ্বাস যদিও আপাতত স্বস্তিতে, তবে সুপ্রিম কোর্টের দরজা খুললে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া থেকে শুরু করে মেসির সেই সফরের চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনা—সব মিলিয়েই এই মামলাটি এখন বাংলার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। অরূপ বিশ্বাসের আইনি রক্ষাকবচ কি শেষ পর্যন্ত বজায় থাকবে, নাকি শীর্ষ আদালত কোনো কঠোর নির্দেশ দেবে? উত্তর পেতে তাকিয়ে আছে রাজ্যবাসী।





