মেসিকে দেখতে না পেয়ে ক্ষোভের আগুন, যুবভারতীতে চেয়ার-কার্পেট তুলে নিয়ে গেল কারা?

ফুটবল তারকা লিওনেল মেসিকে দেখতে না পেয়ে শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন জুড়ে যে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। চড়া দামে টিকিট কেটেও মেসির মুখ দেখতে না পাওয়ার ক্ষোভকে যুক্তিসঙ্গত বললেও, চেয়ার, কার্পেট ও ফুলের টব তুলে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।

শনিবারের ঘটনায় দেখা যায়, ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ তালা ভাঙছেন, কেউ চেয়ার ভাঙছেন, আবার কেউ কেউ আস্ত কার্পেটই কাঁধে করে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। এমন এক ব্যক্তি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এবং বলেন, “অনেক টাকা দিয়ে এসেছি। ১০ হাজারের টিকিট কেটেছি। মেসির মুখ দেখতে পাইনি। শুধু নেতামন্ত্রীদের মুখ দেখেছি। এটা নিয়ে যাচ্ছি, কারণ প্র্যাকটিস করব আমরা ক্লাবে।”

রাজনৈতিক তরজা: ‘পয়সা উসুল’ না ‘নিকৃষ্টতম ঘটনা’

এই ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশকে ‘স্বাভাবিক’ বললেও ভাঙচুর সমর্থন করেননি। তিনি বলেন, “যারা ভেঙেছে, তারা ১৫ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেছিল, ভাঙা সিট নিয়ে যাওয়ার জন্য নয়। তবে বাংলাদেশিদের মতো করে কার্পেট, ফুলের টব তুলে নিয়ে যাওয়া কাম্য নয়। আসলে মানুষ বলছে, আমরা পয়সাটা উসুল করতে এসেছি।”

অন্যদিকে, তৃণমূল মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত নিকৃষ্টতম ঘটনা’ বলে অভিহিত করেছেন, যা কলকাতার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। তিনি দাবি করেন, “কিছু এমন লোকজন ঢুকে পড়েছিল, যারা এসব করেছে। একজনকে তো দেখছি, গেরুয়া পতাকা হাতে জয় শ্রী রাম বলেও ভাঙচুর করছিল। কারা এই কাণ্ড ঘটাল, নিশ্চয়ই পুলিশ দেখবে।”

এই ঘটনায় মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাঁকে রবিবার আদালতে পেশ করা হয়। আদালতে তোলার সময়ও বিজেপি কর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy