“মেশিনে চিপ ঢুকিয়ে ভোট চুরির ছক!” ইভিএম নিয়ে মারাত্মক অভিযোগ তুলে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি মমতার

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মালদহের মাটি থেকে দিল্লি ও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবারের জনসভা থেকে তাঁর নিশানায় ছিল মূলত দুটি বিষয়— প্রধানমন্ত্রীর ‘পাকিস্তান নীতি’ এবং ইভিএম (EVM) কারচুপির আশঙ্কা।

পাকিস্তান ইস্যুতে মোদীকে তোপ: এদিনের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মমতা বলেন, “দেশের নানা ইস্যুতে মুখ খুললেও পাকিস্তান ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী কেন চুপ? সীমান্ত সুরক্ষা আর অনুপ্রবেশ নিয়ে রাজনীতি করা ছাড়া ওরা আর কিছুই জানে না।” তিনি সাফ জানান, এবারের নির্বাচনে বাংলার মানুষ বিজেপিকে একটি আসনও দেবে না। বঙ্গে গেরুয়া শিবিরকে ‘শূন্য’ করার ডাক দেন তিনি।

ইভিএম নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ: ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী এদিন দলীয় কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। তাঁর অভিযোগ, “ইভিএম মেশিন খারাপ হলে ওরা সেটা সারানোর নাম করে ভেতরে চিপ ঢুকিয়ে দিতে পারে। এতে ভোটের ফলাফল বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।” কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর কড়া নির্দেশ, “মেশিন খারাপ হলে ভোট হতে দেবেন না। যতক্ষণ না নতুন মেশিন আসছে বা যথাযথ পরীক্ষা হচ্ছে, ততক্ষণ ভোট বন্ধ রাখুন। মেশিন সারানোর নামে কোনো জালিয়াতি সহ্য করা হবে না।”

বিজেপির পাল্টা জবাব: মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘ইভিএম হ্যাকিং’ তত্ত্বকে স্রেফ পরাজয়ের অজুহাত বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পেরেছেন মানুষ তাঁদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন, তাই এখন থেকেই ইভিএম-এর ওপর দায় চাপানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করছেন।

ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথেই ইভিএম এবং জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান রাজনৈতিক উত্তাপকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। এখন দেখার, মালদহের এই ‘ইভিএম অ্যালার্ট’ এবং ‘পাকিস্তান খোঁচা’ ভোটের বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy