কন্যা সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এবং তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে মোদী সরকারের ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ অভিযানের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় অংশ হলো সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা (SSY)। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে এই প্রকল্পটি এখন অন্য যেকোনো ফিক্সড ডিপোজিট (FD) বা পিপিএফ (PPF)-এর তুলনায় বেশি রিটার্ন দিচ্ছে।
কেন এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করবেন? বর্তমানে সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনায় বার্ষিক ৮.২% হারে সুদ পাওয়া যাচ্ছে, যা ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। শুধু তাই নয়, এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর ‘EEE’ স্ট্যাটাস। অর্থাৎ:
-
বিনিয়োগ করা টাকার ওপর কর ছাড় (৮০সি অনুযায়ী)।
-
অর্জিত সুদের ওপর কোনো কর দিতে হয় না।
-
ম্যাচিউরিটির সময় প্রাপ্ত পুরো টাকাটিও সম্পূর্ণ আয়কর মুক্ত।
২০২৬-এর জরুরি নিয়মাবলি: ১. কারা অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন? ১০ বছরের কম বয়সী মেয়ের নামে তার বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবক এই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। একটি পরিবারে সর্বোচ্চ দুই মেয়ের নামে অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব (যমজ সন্তান হলে ক্ষেত্রবিশেষে ৩টি)। ২. বিনিয়োগের সীমা: বছরে ন্যূনতম ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জমা দেওয়া যায়। ৩. টাকা জমার মেয়াদ: অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত টাকা জমা দিতে হবে। এরপর আর টাকা জমা দিতে না হলেও ২১ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত অ্যাকাউন্টে সুদ যোগ হতে থাকবে। ৪. টাকা তোলার নিয়ম: মেয়ের বয়স ১৮ বছর হলে বা দশম শ্রেণি পাস করলে উচ্চশিক্ষার জন্য জমানো টাকার ৫০% পর্যন্ত তোলা যায়। আর ২১ বছর পূর্ণ হলে বা মেয়ের ১৮ বছর বয়সের পর বিয়ে ঠিক হলে পুরো টাকা তুলে নেওয়া সম্ভব।
ডেডলাইন অ্যালার্ট: আপনি যদি ইতিমধ্যেই অ্যাকাউন্ট খুলে থাকেন, তবে মনে রাখবেন ৩১ মার্চ, ২০২৬-এর মধ্যে বছরের ন্যূনতম ২৫০ টাকা জমা দিতেই হবে। অন্যথায় অ্যাকাউন্টটি ‘ডিফল্ট’ হয়ে যাবে এবং পুনরায় চালু করতে ৫০ টাকা জরিমানা দিতে হবে।
কত টাকা পাবেন? (হিসাব): যদি কোনো অভিভাবক প্রতি বছর ১.৫ লক্ষ টাকা করে ১৫ বছর জমা করেন, তবে বর্তমান ৮.২% সুদের হার অনুযায়ী ২১ বছর পর ম্যাচিউরিটির সময় ওই মেয়ে প্রায় ৭০ লক্ষ থেকে ৭৫ লক্ষ টাকা পেতে পারে। সামান্য বিনিয়োগে মেয়ের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার এমন সুযোগ আর কোথাও নেই।