মেদিনীপুরে মোদীর মহা-বিস্ফোরণ! “ওবিসি সংরক্ষণ কেড়ে মুসলিমদের দিচ্ছে তৃণমূল”—জঙ্গলমহলে দাঁড়িয়ে শাহী হুঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর

জঙ্গলমহলে ভোটের দামামা বাজতেই মেদিনীপুরের মাটি থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন ও বিস্ফোরক আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার বিকেলে আয়োজিত এক মেগা জনসভা থেকে তিনি সরাসরি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে ওবিসিদের (OBC) জন্য বরাদ্দ ন্যায্য সংরক্ষণে থাবা বসিয়ে তা মুসলিমদের হাতে তুলে দেওয়ার ‘গোপন ষড়যন্ত্র’ করছে শাসক দল তৃণমূল।

সংরক্ষণ ইস্যুতে মমতা সরকারকে কড়া তোপ

আগামী বৃহস্পতিবার জঙ্গলমহলে নির্বাচন। তার ঠিক আগে এই ইস্যু তুলে প্রধানমন্ত্রী ভোটারদের মেরুকরণের ইঙ্গিত দিলেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মোদী বলেন—

“তৃণমূল নিজেদের ভোটব্যাংক বাঁচাতে ওবিসি ভাই-বোনদের অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছে। এই বিভাজনের রাজনীতি বাংলা আর সহ্য করবে না।”

মোদীর ডাইনিং টেবিল থেকে জঙ্গলমহলের রাস্তা

নির্বাচনী ভাষণের পাশাপাশি এদিন মোদীর অন্য এক রূপও ধরা পড়ে মেদিনীপুরে। ঝাড়গ্রামের রাস্তায় কনভয় থামিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে মিশে গিয়ে ১০ টাকার ঝালমুড়ি খেতে দেখা যায় তাঁকে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, “মাটির মানুষের” সাথে এই সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বোঝাতে চেয়েছেন যে তিনি বাংলার আবেগ ও সংস্কৃতির সাথে জড়িয়ে আছেন।

বিজেপির জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মোদী

মেদিনীপুরের জনসভায় উপচে পড়া ভিড় দেখে মোদী দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে এবার বিজেপির সরকার গড়া নিশ্চিত। তাঁর কথায়, জঙ্গলমহলের মানুষ তৃণমূলের দুর্নীতি আর ‘তোষণ নীতি’র জবাব দিতে তৈরি হয়ে বসে আছে। মেদিনীপুরের এই সভা থেকে তিনি স্লোগান দেন, “এবার বিজেপি, এবার পরিবর্তন”।

শুভেন্দুর পাল্টা আক্রমণ

এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। তিনি নাম না করে প্রতিপক্ষ পবিত্র করকে নিশানা করার পাশাপাশি পুরোনো দিনের স্মৃতি টেনে বলেন, “এই জল শুধু হিন্দুরা খেত না, আজহারও খেত”—যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও তোষণের রাজনীতির ব্যবধান বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

উপসংহার: জঙ্গলমহলের ভোটে ওবিসি সংরক্ষণ ইস্যু কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার। তবে মোদীর আজকের এই ‘মুসলিম কোটা’ সংক্রান্ত আক্রমণ যে রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় বিতর্কের ঝড় তুলবে, তা নিশ্চিত।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy