বাংলার রাজনীতিতে এই মুহূর্তে সবথেকে বড় নাম শুভেন্দু অধিকারী। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া পর্যন্ত— তাঁর রাজনৈতিক পথচলা কোনো রোমাঞ্চকর উপন্যাসের চেয়ে কম কিছু নয়। তৃণমূলের একসময়ের দাপুটে নেতা থেকে আজ বিজেপির প্রধান মুখ, শুভেন্দুর সাফল্যের রথ যেন কিছুতেই থামবার নয়।
তৃণমূলের অন্দরে উত্থান ও বিচ্ছেদ শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল নন্দীগ্রাম আন্দোলন। ২০০৭ সালে জমি রক্ষা কমিটির হয়ে তাঁর লড়াই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাইটার্স বিল্ডিংস-এর পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিল। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান এবং ডাইনামিক রাজনীতির পরিবর্তনের ফলে দূরত্ব বাড়তে থাকে নেত্রীর সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালে অমিত শাহের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। তখন অনেকেই ভেবেছিলেন এটি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ঝুঁকি, কিন্তু শুভেন্দু প্রমাণ করেছেন তিনি লড়াই করতে জানেন।
মমতার দুর্গে হানা: নন্দীগ্রাম থেকে ভবানীপুর শুভেন্দুর সাফল্যের মুকুটে সবচেয়ে বড় পালক হলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি ভোটে হারানো। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নিজের গড় নন্দীগ্রামে তৃণমূল নেত্রীকে পরাজিত করে তিনি সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি যা করলেন, তা ইতিহাস। নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মমতার খাসতালুক ভবানীপুর থেকেও লড়াই করেন তিনি। ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ভবানীপুরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। অর্থাৎ, টানা দুবার মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যক্তিগত লড়াইয়ে পরাস্ত করার এক বিরল নজির গড়লেন তিনি।
বিজেপির তুরুপের তাস বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী হয়ে উঠেছিলেন দলের আসল সেনাপতি। ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে বুথ স্তরের সংগঠন সাজানো— সব জায়গাতেই তাঁর সুনিপুণ ছোঁয়া ছিল। এবারের নির্বাচনে বিজেপি যে ২০০-র বেশি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ জয় ছিনিয়ে নিয়েছে, তার পেছনে শুভেন্দুর কৌশলকেই সবথেকে বড় ক্রেডিট দিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী অবশেষে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালের মে মাসে বিজেপি পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আজ (৮ মে) তাঁর নাম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং আগামীকাল (৯ মে) তিনি শপথ নিতে চলেছেন। কাঁথির সেই সাধারণ পরিবারের ছেলেটি আজ বাংলার প্রশাসনিক প্রধান।
পদ্ম শিবিরে যোগ দিয়েও যে নিজের দাপট বজায় রাখা যায় এবং জয়ের ধারা অব্যাহত রাখা যায়, শুভেন্দু অধিকারী তার জলজ্যান্ত উদাহরণ। বাংলার রাজনীতিতে ‘শুভেন্দু যুগ’ শুরু হলো কি না, এখন সেটাই দেখার।





