মেট্রোর সিটে বসাই কি কাল হলো? দিল্লির ট্রেনে আসন নিয়ে হাতাহাতি, প্রবীণ ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্তব্ধ রাজধানী!

ব্যস্ত সময়ে দিল্লি মেট্রোর কামরায় প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত একটি মাত্র আসন দখলকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। তুচ্ছ বচসা থেকে শুরু হওয়া হাতাহাতির জেরে শেষপর্যন্ত প্রাণ হারালেন ৪৮ বছর বয়সী পবন শর্মা নামে এক মধ্যবয়সী যাত্রী। ঘটনার ভয়াবহতায় স্তব্ধ রাজধানী দিল্লি।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে গত ৯ অক্টোবর, দিল্লির সুপ্রিম কোর্ট মেট্রো স্টেশনে। এফআইআর (FIR) ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মেট্রোর কামরায় প্রবীণদের নির্ধারিত আসনে বসাকে কেন্দ্র করে পবন শর্মার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন দুই প্রভাবশালী যাত্রী। অভিযোগ, বচসা চলাকালীন ওই দুই ব্যক্তি পবন শর্মাকে কষে চড় মারেন এবং সজোরে ধাক্কা দেন। ধাক্কার অভিঘাতে পবনবাবু মেট্রোর শক্ত মেঝেতে আছড়ে পড়েন এবং তাঁর মাথায় মারাত্মক আঘাত লাগে।
ঘটনার পরপরই রক্তাক্ত অবস্থায় মেট্রো কর্মীরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে চাপিয়ে লোকনায়ক জয়প্রকাশ (LNJP) হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে হাসপাতালেই মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনার পর জনবহুল ও সুরক্ষিত মেট্রো চত্বরে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন উঠে গিয়েছে।
ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মৃতের মা দুর্গা শর্মার লিখিত দাবির ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট মেট্রো পুলিশ স্টেশনে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের তির দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি—সঞ্জয় প্রতাপ সিং এবং সিদ্ধার্থ সিংয়ের দিকে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত সঞ্জয় প্রতাপ সিং একজন প্রাক্তন সিনিয়র আইএএস (IAS) অফিসার, যাঁর বিরুদ্ধে অতীতে ১০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের দুর্নীতির অভিযোগে সিবিআই (CBI) পদক্ষেপ করেছিল। অন্যদিকে, দ্বিতীয় অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ সিং সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী।
এক প্রবীণ নাগরিকের মা হারিয়ে যাওয়ার শোকে ব্যাকুল হলেও, আইনের দ্বারস্থ হয়ে সুবিচারের দাবি জানিয়েছেন। দিল্লি মেট্রো পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনার আসল সত্য উদ্ঘাটনে সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।