টুকরো হচ্ছে পাকিস্তান? খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করতেই নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকট!

পাকিস্তানে তীব্র রাজনৈতিক সংকট এবং ক্রমবর্ধমান জঙ্গি হামলার জেরে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করল শেহবাজ শরিফ সরকার। রবিবার পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির অনুমোদন পাওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। এর ফলে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (PTI) এই শক্ত ঘাঁটিতে নির্বাচিত সরকার কার্যত সমস্ত ক্ষমতা হারাল।
পাকিস্তানের সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৪ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে এই কঠোর পদক্ষেপ করা হয়েছে। পিটিআইয়ের অভিযোগ, খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি এবং দলটির প্রাদেশিক সভাপতি জুনেইদ আকবরকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে মহম্মদ ফখর আলম ইরফানের নামও ঘোষণা করা হয়েছে।
জরুরি অবস্থার নেপথ্যে কী কারণ?
আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়ায় দীর্ঘ দিন ধরেই ধারাবাহিক জঙ্গি হামলা চলছে। শেহবাজ সরকারের অভিযোগ, পিটিআইয়ের প্রাদেশিক প্রশাসন সন্ত্রাস দমনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বে জরুরি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরই এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়।
রাজপথ থেকে রাজনৈতিক টানাপোড়েন
অন্য দিকে, কারাবন্দি নেতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দীর্ঘ পদযাত্রার ডাক দিয়েছিল পিটিআই। খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী আফ্রিদির নেতৃত্বেই ইসলামাবাদের দিকে এগোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আন্দোলনকারীরা। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেই জরুরি অবস্থা জারির পদক্ষেপ করল কেন্দ্র।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পিটিআইয়ের অন্যতম দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই প্রদেশে নির্বাচিত সরকার সরিয়ে দেওয়ার ফলে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট আগামী দিনে আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। আগামী ১৩ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ও সেনেটের বৈঠকে এই বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়ে বড় ধরনের উত্তেজনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর গোটা বিশ্বের।