রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণা ট্রাম্পের! দুই দেশ মেনে নিলেও পুতিন-জেলেনস্কিকে নিয়ে এল বড় মোড়

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্বে এক নতুন মোড় এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, দুই দেশই পারস্পরিক হামলা বন্ধ রেখে একটি নতুন ‘শক্তি যুদ্ধবিরতি’ বা ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে’ সম্মত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথআউটে এক পোস্টে এই ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই যুদ্ধবিরতি কোনোভাবেই ভাঙা যাবে না।

সম্প্রতি ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে লাগাতার ড্রোন ও মিসাইল হামলার পর বিশ্ববাজারে ডিজেল ও জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করে। এই পরিস্থিতিতেই আসরে নামেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ঠিক একদিন আগেই ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, ইউক্রেনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সংঘাত নিরসনে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছেন না। এমনকি তিনি ইউক্রেনের জনগণের উদ্দেশে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধ বন্ধ করতে সক্ষম এমন নতুন কোনো নেতা বেছে নেওয়া উচিত দেশটির।

ট্রাম্পের এই দাবির জবাবে মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি সাফ জানিয়ে দেন, দেশের নেতা নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে ইউক্রেনীয় সমাজ ও জনগণের নিজস্ব গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে এর পরেই একটি শর্ত জুড়ে দিয়ে তিনি জানান, যদি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন টানা ৬০ দিন বা দুই মাসের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন, তবেই তারা নতুন নির্বাচন নিয়ে ভাবতে পারেন।

এদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল না করে দুই পক্ষই জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধ করতে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি স্পষ্ট করেছেন যে, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের জ্বালানি কাঠামোর ওপর আক্রমণ বন্ধ রাখে, তবে ইউক্রেনও রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো লক্ষ্য করে আর হামলা চালাবে না। তবে যে কোনো স্থায়ী শান্তির জন্য সুনির্দিষ্ট ও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে ইউক্রেন। যুদ্ধের এই আবহে ট্রাম্পের মধ্যস্থতা ও নতুন এই যুদ্ধবিরতি বিশ্ব রাজনীতিতে কতদূর প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।