ওয়াশিংটন ডিসির বার্ষিক হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি হামলাকারী ৩১ বছর বয়সী কোল টমাস অ্যালেনকে একজন ‘উগ্রপন্থী’ এবং ‘মানসিকভাবে অসুস্থ’ ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একইসঙ্গে, নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচিয়ে আনার জন্য ইউনাইটেড স্টেটস সিক্রেট সার্ভিসের পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি।
হামলাকারীর ইশতেহার ও ট্রাম্পের পর্যবেক্ষণ
সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি সন্দেহভাজন হামলাকারীর ম্যানিফেস্টো বা ইশতেহারটি পড়েছেন। ট্রাম্পের কথায়, “সে পুরোপুরি উগ্রপন্থী হয়ে গিয়েছিল। আগে সে খ্রিস্টধর্মে বিশ্বাসী ছিল, কিন্তু পরে সে খ্রিস্টান-বিরোধী হয়ে ওঠে। তার পরিবারও তাকে নিয়ে খুব চিন্তিত ছিল।” প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দেন যে, অ্যালেন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন এবং তার পরিবার এই বিষয়ে আগেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সতর্ক করেছিল।
হিলটনের সেই আতঙ্কিত সন্ধ্যা
গত শনিবার সন্ধ্যায় যখন ওয়াশিংটন হিলটনে ডিনার অনুষ্ঠান চলছিল, তখন নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ঢুকে পড়ে কোল টমাস অ্যালেন এবং গুলি চালাতে শুরু করে। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে কাবু করেন। সেই মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। যদিও এই সংঘর্ষে একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।
মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরার অভিজ্ঞতা
সেই রোমহর্ষক মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “যখন এজেন্টরা চিৎকার করে বলল ‘নিচু হন’, আমি প্রথমে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছিলাম। আমি দেখতে চেয়েছিলাম আসলে কী ঘটছে। ওরা যখন বলল ‘মেঝেতে শুয়ে পড়ুন’, তখন আমি এবং মেলানিয়া মেঝেতে শুয়ে পড়ি।” হামলাকারীর গতির বর্ণনা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “ওর দৌড়ানোর গতি ছিল অবিশ্বাস্য, ঠিক যেন একটা ঝাপসা কিছু ধেয়ে আসছে।”
ট্রাম্প স্পষ্ট জানান যে, সিক্রেট সার্ভিসের জওয়ানরা জীবন বাজি রেখে কাজ করেছেন। “ওরা বন্দুক দেখা মাত্রই পদক্ষেপ নিয়েছে। আমি এই সাহসী মানুষগুলোর বড় ভক্ত,” বলেন প্রেসিডেন্ট। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চের মতে, তদন্তে প্রাথমিক আভাস পাওয়া গেছে যে হামলাকারী ট্রাম্প প্রশাসনের সদস্যদের টার্গেট করেই এই ছক কষেছিল।





