কোচবিহারের মেখলিগঞ্জে জামালদহ ধর্ষণকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল। মঙ্গলবার সকালে নির্যাতিতা নাবালিকার বাড়িতে গিয়ে গ্রামবাসীদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়লেন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক পরেশ অধিকারী। গত বৃহস্পতিবার ১১ বছরের এক নাবালিকাকে প্রতিবেশী এক বৃদ্ধ যৌন নির্যাতন করে বলে অভিযোগ। ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার না হওয়ায় এবং উল্টে আন্দোলনকারীদের পুলিশ জেলবন্দি করায় এদিন বিধায়ককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান গ্রামের মহিলা ও ছাত্রীরা।
অভিযোগ উঠেছে, গত ২২ জানুয়ারি নদীর ধারে কাঠ আনতে গিয়ে ওই নাবালিকা প্রতিবেশী ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধের লালসার শিকার হয়। ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। এক প্রতিবেশী মহিলার তৎপরতায় নাবালিকা উদ্ধার হলেও, অভিযোগ দায়ের করতে দেরি হয় প্রাণনাশের হুমকির কারণে। শনিবার অভিযোগ দায়েরের পর জামালদহে পথ অবরোধ শুরু করেন গ্রামবাসীরা। অভিযোগ, পুলিশ সেই অবরোধ তুলতে গিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং এক শিক্ষকসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করে। অথচ অভিযুক্ত বৃদ্ধ এখনও অধরা। এই বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধেই এদিন বিধায়কের সামনে ফেটে পড়েন উত্তেজিত মহিলারা।
বিধায়ক পরেশ অধিকারীকে ঘিরে বিক্ষোভকারীরা চিৎকার করে জানতে চান, কেন অভিযুক্তকে আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে? কেন নির্দোষ আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার করা হলো? বিক্ষোভ নিয়ে বিধায়ক নিজে মুখ না খুললেও বিজেপির দাবি, পুলিশ নগ্নভাবে অপরাধীকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। অন্য দিকে, তৃণমূল জেলা নেতৃত্বের দাবি, এটি কোনো বিক্ষোভ নয়, বরং বিধায়কের কাছে বিচার চাওয়ার একটি মাধ্যম। তবে জামালদহ এলাকায় বর্তমানে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশের এই রহস্যময় নীরবতা ও বিধায়কের ওপর জনগণের এই অনাস্থা মেখলিগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বর্তমানে এলাকাবাসীর দাবি একটাই—অবিলম্বে অভিযুক্তের ফাঁসি এবং ধৃত আন্দোলনকারীদের নিঃশর্ত মুক্তি।