মৃত্যুফাঁদ স্লিপার বাস! ১৪৫ জনের প্রাণ যেতেই কি চরম সিদ্ধান্ত নিল মোদী সরকার?

বিগত কয়েকমাসে দেশের সড়কপথে স্লিপার বাসগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত মাত্র ৬ মাসেই সারা দেশে স্লিপার বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ১৪৫ জন যাত্রী। শিউরে ওঠার মতো তথ্য হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনার পর বাসের কোচে দ্রুত আগুন লেগে যাওয়ার কারণেই মৃত্যুর সংখ্যা এতটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং যাত্রী সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে এবার নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণ মন্ত্রক।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে সাধারণ গ্যারেজ বা স্থানীয়ভাবে স্লিপার বাসের বডি তৈরি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তিনি জানান, “এখন থেকে কেবলমাত্র কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদিত নির্দিষ্ট গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলোই স্লিপার বাস তৈরি করতে পারবে।” সরকারের দাবি, স্থানীয়ভাবে তৈরি বাসের বডিতে অনেক সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয় এবং অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থার তোয়াক্কা করা হয় না, যা দুর্ঘটনার সময় যমদূত হয়ে দাঁড়ায়।

সুরক্ষায় একগুচ্ছ নয়া নির্দেশিকা: নতুন আইন অনুযায়ী, স্লিপার বাসগুলোকে এখন থেকে উন্নত প্রযুক্তির ‘সেফটি ডিভাইস’ দ্বারা সজ্জিত হতে হবে। এর মধ্যে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে:

ফায়ার ডিটেকশন সিস্টেম: বাসের কোনো অংশে ধোঁয়া বা আগুনের আভাস পেলেই সংকেত দেবে।

এমার্জেন্সি লাইটিং ও এক্সিট: অন্ধকারের মধ্যেও যাত্রীরা যেন দ্রুত বেরোনোর পথ খুঁজে পান।

ড্রাইভার ড্রাউজিনেস অ্যালার্ট: চালকের চোখে ঘুম এলে বা মনঃসংযোগ নষ্ট হলে সতর্ক করবে এই সিস্টেম।

সেফটি হ্যামার: আপদকালীন পরিস্থিতিতে জানলার কাঁচ ভাঙার জন্য হাতুড়ি রাখা বাধ্যতামূলক।

বাধ্যতামূলক নতুন বাস কোড: কেন্দ্র জানিয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে ‘Modified Bus Body Code’ কার্যকর হয়েছে। প্রতিটি বাসকে IS-052 Bus Body Code মেনে চলতে হবে। এই নির্দিষ্ট মানদণ্ড ছাড়া কোনো স্লিপার বাস রাস্তায় নামলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মূলত অগ্নিকাণ্ড রুখতে এবং বাসের গঠনগত মজবুতি বাড়াতেই এই মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছে কেন্দ্র। সরকারের আশা, এই নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy