‘মৃত্যুই শেষ নয়…’ অপারেশন টেবিলে মৃত ঘোষণা হওয়ার পর যা দেখেছিলেন এই বৃদ্ধা, জানলে শিউরে উঠবেন!

জীবন কখনও কখনও মানুষকে এমন চরম বিপদের মুখে ঠেলে দেয়, যা এক নিমেষে সব কিছু ওলটপালট করে দেয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির বাসিন্দা ক্যাটের জীবনকাহিনি ঠিক তেমনই এক রোমহর্ষক ও অবিশ্বাস্য রূপান্তরের গল্প। চরম দারিদ্র্য, গৃহহীনতা এবং একের পর এক ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আজ তিনি এক সফল কোটিপতি। তাঁর এই অভাবনীয় ঘুরে দাঁড়ানোর জার্নি সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন টক অফ দ্য টাউন।

‘নিড টু নো ইউকে’-র একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৬৭ সালের এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ক্যাট তাঁর মাত্র সাত বছরের আদরের ছেলে মার্ককে চিরতরে হারিয়ে ফেলেন। এই আকস্মিক ধাক্কা তাঁর জীবনকে পুরোপুরি তছনছ করে দেয়। শোকের অতল গহ্বরে ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি অল্পদিনের মধ্যেই তাঁর বাবাও মারা যান। এরপর একে একে দেউলিয়া হয়ে যাওয়া এবং থাকার মাথার ছাদ হারিয়ে তাঁকে রাস্তায় দিন কাটাতে হয়। চরম অসহায়তার মুখে পড়ে ঈশ্বরের ওপর থেকে সমস্ত বিশ্বাস উঠে যায় তাঁর।

তবে ক্যাটের জীবনের আসল টার্নিং পয়েন্ট আসে আরও এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার মাধ্যমে। অতিরিক্ত অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের জেরে তাঁর শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে এবং তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় অপারেশন টেবিলে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসার সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি জ্ঞান হারিয়ে মৃত্যুর খুব কাছাকাছি পৌঁছে যান। তিনি অনুভব করেন যে তিনি এক অন্ধকারের সুড়ঙ্গ পেরিয়ে অন্য এক জগতে প্রবেশ করেছেন। এমনকি অস্ত্রোপচার চলাকালীন অপারেশন থিয়েটারের বাইরে তাঁর পরিবারের সদস্যদের কান্নাকাটি ও প্রার্থনার দৃশ্যও তাঁর অবচেতন মনে ধরা পড়েছিল।

ক্যাটের দাবি, সেই সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তিনি পরকালের এক অদ্ভুত ও অলৌকিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। প্রথমে তিনি এক শান্তির স্বর্গরাজ্য দেখতে পান, যেখানে তিনি চিরকাল থেকে যাওয়ার আকুলতা অনুভব করেছিলেন। কিন্তু তার ঠিক পরেই তাঁর চোখের সামনে ভেসে ওঠে নরকের এক ভয়াবহ চিত্র—যন্ত্রণায় ছটফট করা আর্তনাদরত আত্মায় পরিপূর্ণ এক জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ড। এই মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা তাঁকে ভেতর থেকে কাঁপিয়ে দেয়। ভয় ও অনুশোচনায় আচ্ছন্ন হয়ে তিনি মনে মনে ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং পুনরায় তাঁর অস্তিত্বের ওপর গভীর আস্থা স্থাপন করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই এক রহস্যময় অলৌকিক কণ্ঠস্বর তাঁকে নির্দেশ দেয় যে তাঁকে মানবজাতিকে ঈশ্বরের কাছাকাছি ফিরিয়ে আনতে হবে। আর এর ঠিক পরেই তাঁর হৃদস্পন্দন ফিরে আসে এবং তিনি চোখ খোলেন।

হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর ক্যাটের জীবনদর্শনের আমূল পরিবর্তন ঘটে। সেই অলৌকিক অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণায় তিনি নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন এবং একটি কনসালটেন্সি ফার্ম বা পরামর্শক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর দূরদর্শিতা এবং কঠোর পরিশ্রমে সেই ব্যবসা অল্পদিনেই আকাশছোঁয়া সাফল্য অর্জন করে। আজ ৮৩ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে ক্যাট একজন স্বাবলম্বী কোটিপতি। তাঁর এই দীর্ঘ ও সংগ্রামের জীবন বিশ্ববাসীকে একটি অত্যন্ত জোরালো বার্তা দেয়—মৃত্যু মানুষের জীবনের শেষ পরিণতি নয়, বরং এটি এমন এক নতুন দিগন্ত যেখানে মানুষ তার কর্মের মাধ্যমে নিজস্ব আলোর পথ খুঁজে পায়।