মুহূর্তে মানচিত্র বদলাল নেপালের! সকালের শান্ত নদী কীভাবে রূপ নিল দানবে? কোশী অববাহিকার এই প্রলয় দেখলে শিউরে উঠবেন আপনিও

২৬ অগস্ট সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ নেপালের ভূস্বর্গে নেমে আসে এক বিভীষিকাময় প্রলয়। হঠাৎ করেই ভোটেকোশী নদী দিয়ে নেমে আসে কাদা-মাটির এক প্রবল ও বিপুল স্রোত, যা তার গতিপথের সবকিছু চিরতরে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। নদীর এই বিধ্বংসী রূপ নিমেষে গ্রাস করেছে আস্ত একটি সেতু এবং একটি আস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে। চোখের পলকে মানচিত্র থেকে মুছে গিয়েছে নেপালের বিস্তীর্ণ আবাসিক অঞ্চল ও পরিকাঠামো। পরিবেশবিদ ও ভূতাত্ত্বিকরা এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে প্রধানত জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাবকেই দায়ী করছেন।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসে এই সর্বগ্রাসী কাদাস্রোত। নদীর তীব্র স্রোত এতটাই প্রখর ছিল যে কংক্রিটের সেতু এবং ভারী পরিকাঠামো সম্পন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিমেষেই ধূলিসাৎ হয়ে যায়। জলের জোরালো তোড়ে আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রাম ও সংলগ্ন রাস্তাঘাট জলের তলায় চলে গেছে বা নিখোঁজ হয়েছে। এই আকস্মিক দুর্যোগের ফলে ঠিক কতজন মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন বা কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান এখনও সম্পূর্ণরূপে স্পষ্ট না হলেও প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েকশো কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়েছে, তবে দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উদ্ধারকারীদেরও চরম বেগ পেতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হিমালয় অঞ্চলে অস্বাভাবিক আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এই ধরনের বিপর্যয় বারবার ঘটছে। অনিয়মিত ও অতিবৃষ্টির জেরে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে যাওয়া এবং হিমবাহের আকস্মিক গলনের ফলে নদীগুলোর জলস্তর ও পলি বহনের ক্ষমতা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে চলেছে। ভোটকোশীর এই তাণ্ডব তারই এক নির্মম পরিণতি বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এর আগে উত্তরাখণ্ড ও সিকিমে ঘটে যাওয়া একাধিক বিপর্যয়ের সঙ্গে এই ঘটনার মিল খুঁজে পাচ্ছেন পরিবেশপ্রেমীরা। স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে পাহাড়ি নদী ও সংলগ্ন এলাকাগুলো থেকে দূরে থাকার কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই ভয়াবহ বিপর্যয় আবারও মনে করিয়ে দিল যে জলবায়ু পরিবর্তনের লাল সঙ্কেত উপেক্ষা করলে মানবসভ্যতার সামনে আরও কত বড় বিপদ অপেক্ষা করে আছে।