মুর্শিদাবাদের দীর্ঘদিনের আবেগ আর ঐতিহ্যের লড়াইয়ে এল এক ঐতিহাসিক সাফল্য। অবশেষে দাবি মানল রাজ্য সরকার। মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে রাখা হচ্ছে ‘মুর্শিদাবাদ মহারাজা কৃষ্ণনাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বহরমপুর’। বিধানসভার অধিবেশনে এই সংক্রান্ত সংশোধনী বিলের প্রস্তাব আনা হতেই জেলাজুড়ে খুশির হাওয়া ছড়িয়ে পড়েছে।
১৮৫৩ সালে কাশিমবাজারের রাজা কৃষ্ণনাথ ও তাঁর স্ত্রী রানি স্বর্ণময়ীর আর্থিক অনুদানে যে কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল, ২০১৮ সালে তা বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। কিন্তু সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম থেকে রাজা কৃষ্ণনাথের নাম বাদ পড়ায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয় জেলাবাসীর মনে। যাঁর দান করা জমিতে এই বিশাল প্রতিষ্ঠান, তাঁকেই কেন ‘ব্রাত্য’ রাখা হবে— এই প্রশ্ন তুলে আন্দোলনে নামেন প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।
দীর্ঘ আট বছর ধরে চলে এই নাম পরিবর্তনের লড়াই। প্রাক্তনীদের দাবি ছিল, রাজা কৃষ্ণনাথের নাম বাদ দেওয়া মানে জেলার ইতিহাস ও শিক্ষার ঐতিহ্যের অবমাননা। অবশেষে জেলার সেই গণআবেগ ও প্রাক্তনীদের দাবিকে সম্মান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মতিতে এই বড় সিদ্ধান্ত নিল সরকার। বিলটি বিধানসভায় পেশ হওয়ার পর থেকেই বহরমপুর শহরের মোড়ে মোড়ে উৎসবের মেজাজ।
প্রবীণ নাগরিক ও ঐতিহাসিকদের মতে, এই নামকরণের ফলে শুধু একটি নাম বদলাল না, বরং জেলার লুপ্তপ্রায় মর্যাদাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা হল। প্রশাসনিক স্তরে নাম পরিবর্তনের কাজও দ্রুত শুরু হতে চলেছে। মুর্শিদাবাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির ইতিহাসে রাজা কৃষ্ণনাথের নাম যেমন চিরস্থায়ী হল, তেমনই সাধারণ মানুষের আট বছরের নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলনেরও জয় হল।