মুম্বইয়ের রাস্তায় ফের একবার বেপরোয়া গতির বলি হলেন এক তরতাজা যুবক। গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিদ্যাবিহার এলাকায় যে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছিল, দীর্ঘ ১০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে হার মানলেন ধ্রুমিল হিরানি। সোমবার মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। ধ্রুমিলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। তবে শুধু ধ্রুমিলই নন, ওই একই দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়ে এখনও হাসপাতালের বিছানায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন তাঁর স্ত্রী।
ঘটনার সূত্রপাত ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মুম্বইয়ের বিদ্যাবিহার এলাকার সোমাইয়া কলেজের কাছে ধ্রুমিল তাঁর স্কুটারে করে যাচ্ছিলেন। সেই সময় উল্টো দিক থেকে আসা একটি অতি দ্রুতগামী এসইউভি সরাসরি তাঁদের স্কুটারে ধাক্কা মারে। ধাক্কাটি এতটাই জোরালো ছিল যে স্কুটার থেকে বেশ কয়েক ফুট দূরে ছিটকে পড়েন ধ্রুমিল ও তাঁর স্ত্রী। অভিযোগ উঠেছে, ঘাতক এসইউভি গাড়িটি চালাচ্ছিল এক নাবালক। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সে সজোরে স্কুটারে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ধ্রুমিলের মাথায় ও শরীরে গভীর আঘাত ছিল। গত দশ দিন ধরে চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করলেও সোমবার বিকেলের দিকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এদিকে তাঁর স্ত্রীর অবস্থা এখনও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। ঘাতক নাবালকের বিরুদ্ধে পুলিশ ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করেছে। মুম্বই পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং নাবালকের অভিভাবকের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনা ফের একবার শহরের রাস্তায় নাবালকদের হাতে স্টিয়ারিং তুলে দেওয়ার ভয়াবহ পরিণাম চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।