মুদ্রাস্ফীতির বাজারে বড় স্বস্তি! সবজি-ফলের বাম্পার ফলনে কমবে কি নিত্যপণ্যের দাম?

দেশজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির পারদ যখন ৪ শতাংশ ছুঁয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে, ঠিক তখনই কৃষি মন্ত্রকের রিপোর্ট এক আশার আলো দেখাচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা সত্ত্বেও এ বছর সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের বাজেট খুব একটা ধাক্কা খাবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। এর প্রধান কারণ—ভারতের উদ্যানজাত পণ্যের অভূতপূর্ব উৎপাদন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শস্য বছরে ভারতের উদ্যানজাত পণ্যের উৎপাদন প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৭৭.৭ মিলিয়ন টনে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকার কর্তৃক প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য বলছে, এবছর উদ্যান ফসলের জন্য আবাদি জমির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৩০১.৫১ লক্ষ হেক্টর জমিতে এই বিপুল ফসল চাষ হয়েছে। কৃষি মন্ত্রকের দাবি, ফল, সবজি, ফুল এবং মশলা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এবছর উৎপাদন বাড়বে। বিশেষ করে কলা, আম, পেঁপে এবং আপেলের উৎপাদন ৩ শতাংশ বেড়ে ১,২১৪.৭৫ লক্ষ টনে পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বাজারে ফলের এই ব্যাপক সরবরাহ সরাসরি খুচরো বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।
সবজির বাজারেও স্বস্তির বার্তা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০২৪-২৫ সালের তুলনায় এবছর সবজি উৎপাদন ১.৫ শতাংশ বেড়ে ২,২১০ লক্ষ টনে দাঁড়াবে। আলু, টমেটো, মটর, ফুলকপি এবং লাউয়ের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির উৎপাদন বৃদ্ধির পূর্বাভাস মুদ্রাস্ফীতির বাজারে বড় স্বস্তি। তথ্যানুযায়ী, টমেটোর উৎপাদন ৪.১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২১৪.৬১ লক্ষ টনে পৌঁছাবে। এছাড়া আলুর উৎপাদন ৫৮৫.৭১ লক্ষ টন থেকে বেড়ে ৫৯৮.৮৯ লক্ষ টন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পেঁয়াজের উৎপাদনও ৩০৭.৩৭ লক্ষ টনের কাছাকাছি থাকবে, যা বাজারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।
শুধু সবজি বা ফল নয়, ফুল, সুগন্ধি গাছ এবং মশলার ক্ষেত্রেও রেকর্ড উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মশলার উৎপাদন ১২৬.৫৫ লক্ষ টনে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রসুন, হলুদ এবং মেথির উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফুলের উৎপাদনও ৪২.৬৫ লক্ষ টন থেকে বেড়ে ৪৫.৮৪ লক্ষ টনে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক যখন চলতি অর্থবর্ষে খুচরো মূল্যস্ফীতি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে, তখন কৃষি মন্ত্রকের এই পরিসংখ্যান কিছুটা হলেও আশ্বস্ত করছে সাধারণ মানুষকে। পর্যাপ্ত সবজি ও ফলের জোগান থাকলে যে মূল্যবৃদ্ধির দাপট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, তা এবছরের উৎপাদনের খতিয়ান দেখলেই স্পষ্ট হয়। কৃষকদের নিরলস পরিশ্রম এবং উন্নত চাষাবাদের ফলে তৈরি হওয়া এই বিপুল উৎপাদনের জেরে বছরের বাকি মাসগুলোতে সবজির বাজারে অগ্নিমূল্য হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমেছে বলে মত অর্থনীতিবিদদের।