বিধায়কের প্রোটোকল লাটে! সোনারপুরের এক সাধারণ বাড়িতে ঢুকে রূপা গঙ্গোপাধ্যায় খেলেন কী?

গ্ল্যামার দুনিয়ার পরিচিত মুখ থেকে রাজনীতির দাপুটে নেত্রী—রূপা গঙ্গোপাধ্যায় সব সময়ই নিজের স্পষ্টবক্তা ও দৃঢ় অবস্থানের জন্য পরিচিত। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে তিনি এখন নতুন পরিচয়ে জনগণের সেবায় ব্যস্ত। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁর একটি অনাড়ম্বর ও মানবিক কর্মকাণ্ড আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। নিজের রাজনৈতিক প্রোটোকল ও বিধায়কের আভিজাত্যকে দূরে সরিয়ে রূপা গঙ্গোপাধ্যায় যা করলেন, তা সত্যিই বিরল।

ঘটনার দিন দুপুরে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত একটি এলাকায় দলীয় কর্মীদের সঙ্গে পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন বিধায়ক। সেই পথ দিয়েই যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি সাধারণ নিম্নবিত্ত বাড়ির রান্নাঘর থেকে ভেসে আসা লোটে মাছের রান্নার গন্ধে থমকে যান তিনি। রাজনীতির শত ব্যস্ততার মাঝেও মাছের সেই সুগন্ধ তাঁর পা আটকে দেয়। কোনো দ্বিধা না করেই তিনি সঙ্গে থাকা কর্মীদের কাছে জানতে চান গন্ধটা কোন বাড়ি থেকে আসছে। বাড়িটি চিহ্নিত হওয়ার পর সোজা সেই বাড়ির দরজায় গিয়ে উপস্থিত হন তিনি।

জানলা দিয়ে উঁকি মেরে গৃহকর্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেন মাছ রান্নার কথা। ওপার থেকে উত্তর আসতেই রূপা একগাল হেসে আবদার করে বসেন, “গন্ধটা দারুণ বেরোচ্ছিল, তাই লোভ সামলাতে পারলাম না। আমাকে একটু খাওয়াবেন?” খোদ বিধায়কের মুখে এমন সহজ-সরল আবদার শুনে ওই গৃহবধূ প্রথমে কিছুটা হতবাক হলেও, সানন্দে তাঁকে ঘরের ভেতরে আমন্ত্রণ জানান।

এক চিলতে সাধারণ ঘরে চেয়ার পেতে বসে পড়েন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। কোনো রকম আড়ম্বর বা নিরাপত্তার বালাই ছাড়া, হাত ধুয়ে স্টিলের প্লেট হাতে তুলে নেন তিনি। এরপর গরম ভাতের সঙ্গে তৃপ্তি করে খান লোটে মাছের ঝাল। খাওয়া শেষ করে ওই সাধারণ পরিবারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

নির্বাচনী প্রচারের সময় বিরোধী শিবির অভিযোগ তুলেছিল যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালি সংস্কৃতির ওপর আঘাত আসবে। অথচ, সরকার গঠনের পর রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের এই মাছ-ভাত প্রীতি যেন সেই সব অভিযোগের মোক্ষম জবাব হয়ে উঠেছে। বিধানসভায় প্রথম দিনে মাছ-ভাত খাওয়ার পর, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের এই মাটির কাছাকাছি সাধারণ রূপটি এখন নেটপাড়া থেকে স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে। রাজনীতিকদের চেনা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং সাধারণ মানুষের থেকে দূরত্ব বজায় রাখার অভ্যাসের বিপরীতে গিয়ে রূপার এই আচরণ প্রমাণ করল, তিনি কেবল বিধায়ক নন, মানুষের ঘরের মানুষ হয়ে উঠতে জানেন। তাঁর এই অনাড়ম্বর আচরণের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন এই তারকা বিধায়ক।