মুখ্যমন্ত্রী গ্রেপ্তার, দলীয় প্রধান গায়েব! গৃহযুদ্ধের চরম সীমানায় পাকিস্তানের এই প্রদেশ, জারি জরুরি অবস্থা

চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা, হিংসাত্মক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং ভয়াবহ ডামাডোলের জেরে কার্যত গৃহযুদ্ধের উপক্রম হয়েছে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ায় (Khyber Pakhtunkhwa)। কারারুদ্ধ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে হাজার হাজার সমর্থক রাজপথে নেমে তীব্র প্রতিবাদ শুরু করার পর থেকেই অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে গোটা এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে অবশেষে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে শেহবাজ শরিফের কেন্দ্রীয় সরকার এবং সাময়িকভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে প্রাদেশিক সরকার।

পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে যখন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI)-এর তরফ থেকে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে দাবি করা হয় যে, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ সোহেল আফ্রিদি, বিধানসভার স্পিকার বাবর সেলিম সোয়াতি এবং পিটিআই-এর প্রাদেশিক প্রধান জুনাইদ আকবর খানকে অপহরণ করা হয়েছে। পিটিআই-এর দাবি, শুধু দলের শীর্ষ নেতৃত্বই নয়, গত কয়েক সপ্তাহে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের একাধিক জনপ্রতিনিধিও একইভাবে নিখোঁজ হয়েছেন বা তাঁদের আটকে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার সাংবাদিক বৈঠক করে সাফ জানান, প্রাদেশিক সরকার তার দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে এবং এদের জমানাতেই ওই অঞ্চলে উগ্রপন্থী ও জঙ্গি কার্যকলাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি সংবিধানের বিশেষ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে এই জরুরি অবস্থার আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার ফলে প্রদেশের সমস্ত প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এখন সরাসরি ইসলামাবাদ তথা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে চলে গেল।

এই সিদ্ধান্তকে ‘অগণতান্ত্রিক ও অত্যন্ত বিপজ্জনক রাজনৈতিক ভুল’ বলে তোপ দেগেছেন পিটিআই চেয়ারম্যান গওহর আলী খান। তবে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের দফতর থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রাদেশিক সরকারের অবহেলার কারণেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্র। বর্তমানে পেশোয়ারসহ গোটা খাইবার পাখতুনখোয়া জুড়ে ভারী সেনা ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে মূল সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।

আপনি কি পরবর্তীতে এশীয় ভূ-রাজনীতি সম্পর্কিত আর কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদের সাংবাদিকতামূলক বিবরণ চান?