সম্পর্ক মেনে নেয়নি পরিবার, বিয়ের ১০ মাস পর বাপের বাড়ি এসেই তুতো ভাইঝির সঙ্গে গাছে ঝুলে চরম পদক্ষেপ যুবকের!

পরিবারের অমত এবং সমাজের চোখরাঙানিকে উপেক্ষা করতে না পেরে শেষপর্যন্ত চরম পথ বেছে নিলেন এক তরুণ ও তরুণী। রবিবার দুপুরে উত্তর প্রদেশের উন্নাও জেলার বিহার থানা এলাকার একটি আমবাগান থেকে এক যুবক ও যুবতীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মৃতরা সম্পর্কে ভাই-বোন হলেও তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম অভয় কুমার (২৪) ও প্রীতি (২০)। অভয় পূর্ব এলাকার ছট্টা খেড়ার বাসিন্দা হলেও প্রীতি মহারামৌয়ের বাসিন্দা ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দু’জনের এই প্রেমের সম্পর্ক দুই পরিবারের কেউই মেনে নিতে রাজি ছিল না। এমনকি এই সম্পর্ক ভাঙার জন্যই পরিবারের চাপে পড়ে প্রায় ১০ মাস আগে প্রীতির জোরপূর্বক বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তবে বিয়ের পরেও প্রীতি ও অভয়ের মধ্যে যোগাযোগের অন্ত ছিল না। বিয়ের পর বেশিরভাগ সময়ই তিনি নিজের বাপের বাড়িতেই থাকতেন। পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার সকাল ১০টা নাগাদ দুজনেই বাড়ি থেকে বের হন। এরপর দীর্ঘক্ষণ তাঁদের কোনো খোঁজ না মেলায় স্থানীয় বাসিন্দারা ধামনিখেড়া গ্রামের একটি আমবাগানে গিয়ে দুজনকে একটি গাছের ডালে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পান।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিহার থানার পুলিশ। পুলিশ মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। বিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাহুল সিং জানিয়েছেন, এই মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কী কারণ রয়েছে এবং পরিবারের কারও কোনো প্রত্যক্ষ চাপ বা প্ররোচনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে উভয় পরিবারের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে এই ডবল সুইসাইডের ঘটনায় গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।