মুখ্যমন্ত্রীর জন্মদিনের দিনেই রণক্ষেত্র রাঁচি! নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে চাকরিপ্রার্থীদের বিধানসভা ঘেরাও অভিযান, পুলিশের লাঠি-কাঁদানে গ্যাস

নয়াদিল্লির পর এবার চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে তীব্র আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠল ঝাড়খণ্ড (Jharkhand)। সোমবার ঝাড়খণ্ড বিধানসভা ঘেরাও করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে জলকামান, দফায় দফায় কাঁদানে গ্যাসের শেল এবং লাঠিচার্জ করতে হয়। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রীর জন্মদিনের দিনেই এই সংঘাতে গোটা রাজ্যজুড়ে চরম রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

বিধানসভা অভিযান ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

সোমবার সকালে ‘জেপিএসসি-জেএসএসি রিফর্মস মঞ্চ’-এর নেতৃত্বে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী হাতে তেরঙ্গা পতাকা ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে পুরনো বিধানসভা ভবনের সামনে থেকে বর্তমান বিধানসভার দিকে মিছিল করে এগিয়ে যান। আন্দোলনকারীদের রুখতে পথে একাধিক ব্যারিকেড তৈরি করেছিল পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী।

কিন্তু বিক্ষোভকারীরা সমস্ত ব্যারিকেড ভেঙে জগন্নাথপুর মন্দিরের কাছে শেষ স্তরের ব্যারিকেডের দিকে এগোলে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। বিধানসভা ভবন থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে পুলিশ প্রথমে জলকামান ব্যবহার করে এবং পরে বেপরোয়া লাঠিচার্জসহ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশের লাঠির আঘাতে তাঁদের অনেকেই মাথা, হাত ও মুখে গুরুতর চোট পেয়েছেন। কাকতালীয়ভাবে, যেদিন এই সংঘর্ষ ঘটল, সেদিনই ছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের (Hemant Soren) ৫১তম জন্মদিন।

আন্দোলনের মূল দাবি ও পটভূমি

গত দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ঝাড়খণ্ডে এই আন্দোলন চলছে। চাকরিপ্রার্থীদের প্রধান দাবিগুলি হলো:

  • ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (JSSC)-এর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমূল সংস্কার।

  • ১৪তম ঝাড়খণ্ড পিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষাসহ মোট ১৩টি বিতর্কিত ও দুর্নীতিতে জর্জরিত নিয়োগ পরীক্ষা অবিলম্বে বাতিল করা।

  • পুরো দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সিবিআই (CBI) অথবা ভিন্‌ রাজ্যের হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে উচ্চপর্যায় কমিটি গঠন।

বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ, তাঁরা মোট ১৩টি পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানালেও সরকার এর মধ্যে মাত্র তিনটি পরীক্ষা বাতিল করতে রাজি হয়েছে। এই আংশিক পদক্ষেপে সন্তুষ্ট না হয়ে চাকরিপ্রার্থীরা তাঁদের আন্দোলন আরও তীব্রতর করার হুংকার দিয়েছেন। প্রশাসনিক কড়াকড়িকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাঁচির রাজপথ যেভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, তাতে আগামী দিনে হেমন্ত সোরেন সরকারের উপর চাপ যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।