বাংলায় সরকার বদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বনাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বৈরথ এবার এক নজিরবিহীন আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের মোড় নিল। সম্প্রতি ক্যামাক স্ট্রিটে ‘ধন্যবাদ জ্ঞাপন’ কর্মসূচিতে দাঁড়িয়ে সরাসরি ডায়মন্ড হারবারের বিদায়ী সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির খতিয়ান নিয়ে বিস্ফোরক দাবি তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা পুরসভার (KMC) গোপন ফাইল হাত করার দাবি জানিয়ে শুভেন্দুর প্রশ্ন— নির্বাচনের সময় কমিশনে জমা দেওয়া অভিষেকের হলফনামা কি তবে আদতে সত্যি ছিল?
শুভেন্দুর নজরে ২৪টি সম্পত্তি: লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস নিয়ে বড় দাবি
ক্যামাক স্ট্রিটের সভা থেকে সরাসরি অভিষেকের নাম না নিলেও ‘ভাইপো’ সম্বোধন করে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, কলকাতা পুরনিগমের কাছ থেকে তিনি বিশেষ নথিপত্র ও ফাইল চেয়ে পাঠিয়েছেন। সেই ফাইলের সূত্র টেনেই তিনি এক এক করে সম্পত্তির খতিয়ান তুলে ধরেন।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী:
লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস: অভিষেকের পারিবারিক এই সংস্থার নামে মোট ১৪টি সম্পত্তির হদিস মিলেছে।
ব্যক্তিগত সম্পত্তি: খোদ অভিষেকের নিজের নামে রয়েছে আরও ৪টি সম্পত্তি।
পারিবারিক সম্পত্তি: অভিষেকের বাবার নামে রয়েছে আরও ৬টি সম্পত্তি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সব মিলিয়ে ২৪টি সম্পত্তির খতিয়ান এখন আমার সরকারের নজরে। কলকাতা পুরনিগমের কাছ থেকে ফাইল চেয়েছিলাম, সব বেরিয়ে এসেছে। নির্বাচনী হলফনামায় যা দেখানো হয়েছিল, তার সাথে এই বিপুল সম্পত্তির কোনো মিল নেই।”
আইনি বিপাকে পড়তে চলেছেন অভিষেক?
রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন বিজেপি সরকারের এই আক্রমণ অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। যদি নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তি লুকানোর অভিযোগ আইনি স্তরে প্রমাণিত হয়, তবে জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী অভিষেকের পদ খারিজের মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। ইতিমধ্যেই পুরসভার পক্ষ থেকে অভিষেকের বেশ কিছু সম্পত্তিতে বেআইনি নির্মাণের নোটিস পাঠানো ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, শুভেন্দুর এই চাঞ্চল্যকর দাবি তাতে নতুন করে ঘি ঢালল।
তৃণমূলের পাল্টা জবাব
মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণের তীব্র বিরোধিতা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই নতুন মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুরসভার ফাইল নিয়ে রাজনীতি করছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমস্ত সম্পত্তি আইনসম্মত এবং করদাতাদের সমস্ত নিয়ম মেনেই তা নথিভুক্ত।
তবে নবান্নের মসনদে বসে শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে ‘ভাইপোর সম্পত্তি’ নিয়ে একের পর এক ফাইল খুলতে শুরু করেছেন, তাতে আগামী দিনে এই তরজা যে আরও কতদূর গড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে গোটা রাজ্যের।





