. ‘মুখ্যমন্ত্রীই সরকারের মুখ, রাজ্যপাল নন!’ সুপ্রিম রায়ের পর সিভি আনন্দ বোসের মন্তব্যে কেন্দ্র-রাজ্য দ্বন্দ্বে নতুন মোড়

দেশের সর্বোচ্চ আদালত বৃহস্পতিবার এক বহু প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্য বিধানসভা কর্তৃক পাস হওয়া বিল অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালদের আদালত কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে না। তবে একইসঙ্গে সাংবিধানিক বেঞ্চ কঠোরভাবে স্পষ্ট করেছে যে বিল অনুমোদন দেওয়া বা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত অনন্তকাল ঝুলিয়ে রাখা যাবে না।
প্রধান বিচারপতি বি. আর. গবাইয়ের নেতৃত্বাধীন সাংবিধানিক বেঞ্চ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৩-এর আওতায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর পাঠানো ১৩টি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এই রায় দেয়। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, বিল অনুমোদনে দেরি করার প্রশ্নটি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ। আদালত এর উপর সময়সীমা আরোপ করতে পারে না, কিন্তু অনির্দিষ্টকালের জন্য বিল আটকে রাখাও সংবিধানের পরিপন্থী।
আলোড়ন সৃষ্টি করল রাজ্যপালের বক্তব্য: এই রায়ের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে। সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, “দেশের সর্বোচ্চ আদালত সংবিধানে নিহিত ক্ষমতাগুলোকে অক্ষুণ্ণ রেখে দিয়েছে এটাই সবচেয়ে বড় বার্তা। এর মানে এই নয় যে রাজ্যপাল ফাইল হাতে নিয়ে চুপচাপ বসে থাকতে পারেন। নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীই সরকারের মুখ, মনোনীত রাজ্যপাল নন।”
বোস দৃঢ়ভাবে বার্তা দেন যে সংবিধান প্রতিটি পদকে তার নিজস্ব লাইন দিয়েছে এবং সেই লাইন অতিক্রম করা উচিত নয়। তিনি বলেন, “একজোট থেকে দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই উচিত, মুখোমুখি লড়াই নয়, সমন্বয়ই সমাধান।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ভারসাম্যমূলক রায় ভবিষ্যতের কেন্দ্র–রাজ্য সম্পর্ক এবং প্রশাসনিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, যদিও রাজ্যের ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে রাজ্যপালদের চলমান ক্ষমতার টানাপোড়েন সম্পূর্ণ বন্ধ হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।